৪৫ তম প্রয়াণ দিবসে মহানায়ককে স্মরণ করলো বাঙালি। এখনো সিনেমার সর্বোচ্চ টিআরপি উত্তম কুমারের নামেই। তাঁকে দেখেই এখনো নবীন অভিনেতারা সিনে জগতে পদার্পণ করেন।
টালিগঞ্জের উত্তম কুমারের মূর্তিতে সকালে মাল্যদান করা হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এছাড়াও আর্টিস্ট ফোরাম এবং উত্তম অনুরাগীরা উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।
দুস্থ শিল্পী এবং নেপথ্য কারিগরদের সাহায্যার্থে তিনি তৈরি করেছিলেন শিল্পী সংসদ। তার মাধ্যমে বিভিন্ন সিনেমা প্রযোজনা করে তৈরি করে ফেলেছিলেন এক অর্থ তহবিল। আসলে মহানায়ক মরেননি বেঁচে রয়েছেন শিল্পী সংসদের মাধ্যমে। তিনি শুধু মহানায়কই নন তার এই উদার মন তাঁকে মহামানব বানিয়েছে।
এই শিল্পী সংসদের আয়োজনে ৭ দিনব্যাপী উত্তম চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা হলো নন্দন এক প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিন দেখানো হলো সপ্তপদী উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে। এরপর নন্দন ২ তে চলবে এই উৎসব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র ও জয়শ্রী সরকার, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, নবীন অভিনেত্রী বাসবদত্ত্বা সহ অন্যান্য শুভানুধ্যায়ীরা। রত্না ঘোষাল উত্তম কুমারের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং মহানায়কের শেষ যাত্রার ঘটনা বর্ণনা করেন। জাদুকর বলেন উত্তম কুমার তার ম্যাজিক দেখতে পারেননি, ভুল বোঝাবুঝির কারণে হল থেকেই ফিরে যেতে হয়েছিল। উত্তম কুমারের কারিশমা ইতিমধ্যেই হাউসফুলের পথে। এই উপার্জিত অর্থ থাকবে শিল্পী সংসদের তহবিলে। যদিও প্রত্যেক বছর ১৫ দিনের এই উৎসব হয় কিন্তু এবছর হল না পাওয়ার জন্য ৭ দিনেই মন ভরাতে হচ্ছে উত্তম এবং সিনি প্রেমিদের। রবীন্দ্র সদন না পাওয়ায় এ বছর শিল্পী সংসদের সান্ধ অনুষ্ঠান মহাজাতি সদনে আয়োজন করা হয়েছিল সেই অনুষ্ঠানে গায়ক অভিনেতা অভিনেত্রী সহ নেপথ্য শিল্পী টেকনিশিয়ানরাও উপস্থিত ছিলেন। কথায় গানে উত্তম কুমারকে স্মরণ করেন ড. শংকর ঘোষ সহ অন্যান্যরা। সংস্থার সম্পাদক সাধন বাগচী সকলকে উত্তম চলচ্চিত্র উৎসবে শামিল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
অন্যদিকে উত্তম কুমার ডেথ অ্যানিভার্সারি কালচারাল কমিটির পক্ষ থেকে উত্তম মঞ্চের সান্ধ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় মহানায়ককে। বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় অভিনেত্রী শকুন্তলা বড়ুয়া, অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী এবং গায়ক কল্যাণ সেন বরাট কে। এদিন সন্ধ্যায় গানে গানে শ্রদ্ধা জানান রুপঙ্কর বাগচি, পৌষালী, লোপামুদ্রা, জয় সরকার, সৈকত মিত্র সহ অন্যান্যরা। উপস্থিত ছিলেন মেয়র পারিষদ ও বিধায়ক দেবাশীষ কুমার।
এছাড়াও ধনধান্য অডিটোরিয়ামে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উত্তম স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুন্ডু, প্রোডাকশন ডিজাইনার আনন্দ আঢ্য, গায়ক রূপঙ্কর বাগচী, গায়িকা ইমন চক্রবর্তী ও অভিনেত্রী গার্গী রায় চৌধুরীকে মহানায়ক সম্মানে সম্মানিত করেন।
এছাড়াও মহানায়ক শ্রেষ্ঠ সম্মানে সম্মানিত করা হয় পরিচালক গৌতম ঘোষকে।



