বিশাল দাস : বীরভূমের নানুর বিধানসভা এলাকার বোলপুর থানার অন্তর্গত বাহিরী পঞ্চায়েতের বাহিরী পূর্বপাড়া গ্রামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম হাবল লোহার (৪৮)। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত হামলার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর, যার ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, ঘটনার দিন একদল যুবক হাবল লোহার বাড়িতে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযুক্তরা নিজেদের বিজেপি-সমর্থক বা বিজেপি নেতা বলে পরিচয় দিয়েছিল। তাদের হাতে লাঠি, লোহার রড এবং ধারালো অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, বাড়ির সামনে প্রথমে বচসার সৃষ্টি হয়। পরে তা মারধরে পরিণত হয়। হামলাকারীরা হাবল লোহারকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, এলাকার আরও কয়েকটি বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, হামলার সময় গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। চিৎকার-চেঁচামেচি ও উত্তেজনার জেরে বহু মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাবল লোহারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে এবং এর ফলেই হাবল লোহার প্রাণ হারিয়েছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। বরং এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে বলে তারা দাবি করেছে। রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপির নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবল লোহার দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলেও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক নাকি ব্যক্তিগত অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বোলপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহিরী পূর্বপাড়া সহ আশপাশের এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনও কারণ এই মৃত্যুর পেছনে রয়েছে, তা নিয়ে নানা মহলে জল্পনা চললেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ পুলিশ। এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের।



