কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ভারত চেম্বার অফ কমার্সের ১২৫তম বর্ষপূর্তির সূচনা অনুষ্ঠানে দেশের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন ভারতের অর্থনীতির সাফল্য ও উন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখলেন আজ। অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল “ইন্ডিয়া: দ্য মেকিং অব আ মিরাকল” বা “ভারতঃ এক বিস্ময়ের নির্মাণ”।
ড. নাগেশ্বরন বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র ইতিবাচক। তবে, সরকারি বিনিয়োগে সংযম প্রয়োজন। অতিরিক্ত ব্যয়ের বিপদ তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিমত, সরকারি ব্যয় হতে হবে ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে। সম্প্রতি প্রত্যক্ষ কর ছাড় এবং জিএসটি সংস্কার ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণপ্রবাহ বার্ষিক ১৮ শতাংশ হারে বাড়ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, বিশেষত ইউপিআই-কে তিনি ভ্রমণ, হোটেল ও রেস্তোঁরার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রয়োগে উৎসাহিত করলেন । শহরের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল—এই ধারণাকে তিনি ভ্রান্ত বলে ব্যাখ্যা করে এর জন্যে সীমিত তথ্য গ্রহণকে দায়ী করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক শুল্ক-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান অল্প দিনের মধ্যেই বেরিয়ে আসবে। মুদ্রা-বাজার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনিশ্চিত হলেও, ডলারের তুলনায় টাকার তেমন দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের বাধা এড়াতে বাণিজ্যে ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি নজর দিতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, বড় শিল্পে বর্তমানে ঋণের তেমন জোরালো প্রয়োজন নেই। আর্থিক নীতি সেই অনুযায়ী সাজাতে হবে। সৎ ব্যবসার পথে নিয়ন্ত্রক খরচ একটি বড় বাধা। যদিও পরিসংখ্যানে অনেক সময়ে একই নিয়মকে আলাদা রাজ্যে আলাদা করে ধরা হয়, ফলে সংখ্যা বেড়ে যায়, তবুও এ নিয়ে সরলীকরণের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল তৈরি করেছেন তিন।
ভারত চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি শ্রী নরেশ পচিসিয়া জানান, সংস্থা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্ম। তিনি প্রশ্ন তোলেন— কীভাবে দেশের জনসংখ্যাগত প্রয়োজন ও ডিজিটাল অগ্রগতির আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধিতে রূপান্তরিত হবে এবং কীভাবে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে পৌঁছনো যাবে, তা নিয়ে মনোনিবেশ জরুরি।
বর্ষপূর্তি কমিটির চেয়ারম্যান ড. এম. জি. খৈতান ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্যের দিকটি তুলে ধরেন, যেমন,বড় মাপের জনসমাগমের অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে শুরু করে ১,২০,০০০-রও বেশি স্টার্ট-আপ এবং ১২০টিরও বেশি ইউনিকর্ন তৈরি। তিনি ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পসংস্থাগুলির-র ক্ষেত্রে জটিল নিয়ম ও খরচসাপেক্ষ দাখিল প্রক্রিয়া সরল করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন অনুষ্ঠানে। গবেষণা বাড়াতে ১ লক্ষ কোটি টাকার ‘অনুসন্ধান গবেষণা তহবিল’-কে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারত চেম্বার অফ কমার্স দেশের অন্যতম পুরানো শিল্প সংগঠনগুলির মধ্যে পরে। বণিক ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়তে তার ভূমিকা বিশেষ। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই সংস্থা বাণিজ্য, শিল্প ও সংস্কারের পক্ষে কাজ করেছে এবং উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিয়েছে। ১২৫ বছরে পা দিয়ে সংস্থাটি আজও ভারতের উন্নয়নযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।



