সুমন আদক, হাওড়া: সম্পত্তির লোভে আপন শ্যালক’কে ‘খুন’ এর অভিযোগ উঠেছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার ডোমজুড়ের ভান্ডারদহ নস্করপাড়া এলাকায়। খুনের পর সপরিবারে পলাতক ওই অভিযুক্ত। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ডোমজুড় থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুর একটা নাগাদ জামাইবাবু বাবলু নস্কর ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাড়ির সামনের বাগানে কুপিয়ে ‘খুন’ করে তার শ্যালক রাকেশ নস্কর (৪৫)-কে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত প্রায় দু’বছর জামাইবাবু বাবলু নস্কর তাঁর স্ত্রী ভারতী এবং দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে ‘সম্পত্তি’র লোভে শ্বশুরবাড়িতেই থাকছিলেন। শ্বশুরবাড়ির জমির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে প্রায়ই শ্যালক এবং জামাইবাবুর মধ্যে ঝামেলা চলছিল। বৃহস্পতিবার ওই পরিবারে দু’জনের মধ্যে ফের গন্ডগোল বাধে। সেই সূত্রেই শুক্রবার সকাল থেকে ফের শুরু হয়ে যায় ঝামেলা। দুপুর একটা নাগাদ ঝামেলা চরম আকার নেয়। এরপরই জামাইবাবু বাবলু নস্কর ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে রাকেশের উপর ঝাপিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। তাঁর গোটা শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপ মারতে থাকে। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রাকেশ। সেই সময় উপস্থিত ছিল দুই ভাগ্না-ভাগ্নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ডোমজুড় থানার পুলিশ। আহত রাকেশকে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে শরীর থেকে অত্যধিক রক্তক্ষরণের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। খুনের পর ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় বাবলু নস্কর এবং পরিবারের সদস্যরা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। মৃতের স্ত্রী শ্রাবন্তী নস্কর পাল বলেন, ‘জামাই আমাদের ঘরে ঢুকতে দিত না। ঘর তালা দিয়ে রেখেছে। আজকে ভাগ্না-ভাগ্নি, দিদি, জামাইবাবু মিলে আমার স্বামীকে মার্ডার করে দিল। আমাদের ভিটেতে আমাদেরকেই ওরা থাকতে দিচ্ছিল না। ওরাই একা থাকবে ভিটেতে এমন পরিকল্পনা করেছিল। আজকে ঘরের ছেলেকে সম্পত্তির লোভে মেরে দিল ননদ। আজকেও মীমাংসার জন্য সকালে থানায় গিয়েছিলাম। থানা বলেছিল দেখবে।’



