Saturday, March 7, 2026
spot_img

গঙ্গাসাগরে মন্ত্রীর হাতে ঝাড়ু, মেলাকে ‘গ্রিন মডেল’ গড়তে কোমর বাঁধছে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০২৬ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে দেশের সামনে ‘মডেল গ্রিন মেলা’ হিসেবে তুলে ধরতে কোমর বেঁধে নামল রাজ্য সরকার। প্লাস্টিকমুক্ত মেলা প্রাঙ্গণ এবং স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বছরের শেষ দিনে এক অভিনব সাফাই অভিযানে নামল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। সাধারণ পুণ্যার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ছড়াতে এদিন খোদ সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরাকে দেখা গেল হাতে ঝাড়ু নিয়ে ময়দানে নামতে।
বুধবার সাগরদ্বীপে পরিবেশ দপ্তর ও গঙ্গাসাগর-বকখালি উন্নয়ন পর্ষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সাফাই অভিযানে শামিল হয়েছিল একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব। গঙ্গাসাগর-বকখালি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার মালি, বিডিও কানাইয়া কুমার রাও সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি কুমার প্রধান উপপ্রধান এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের নিমাই মহারাজ থেকে শুরু করে কপিল মুনির আশ্রমের পুরোহিতরা— বাদ যাননি কেউ। মন্ত্রীকে নিজে হাতে চত্বর পরিষ্কার করতে দেখে মেলায় আসা পুণ্যার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়।
এদিনের অভিযানে নেমে মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা স্পষ্ট বার্তা দেন, গঙ্গাসাগর কেবল পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি একটি পবিত্র তীর্থভূমি। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি নিজে তদারকি করেন। আগামী ৫ জানুয়ারি তিনি এখানে এসে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন, যার মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতুর বিষয়টিও রয়েছে।”
একইসঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণের পবিত্রতা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। কপিল মুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লুকিয়ে মাছ-মাংস রান্না করছেন বলে অভিযোগ আসছিল। এদিন মন্ত্রী সাফ জানান, এটি ধর্মীয় স্থান, তাই মেলা প্রাঙ্গণে আমিষ রান্না সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জিবিডিএ-র চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার মালি জানান, প্রতি বছরই বছরের শেষ দিনে এই সাফাই অভিযান কর্মসূচি নেওয়া হয়। এ বছরও সেই ঐতিহ্য মেনে সাফাই অভিযান পালন করা হলো। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো দেশ-বিদেশ থেকে যে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে আসবেন, তাঁরা যেন নিরাপদে পুণ্যস্নান সেরে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং এখানকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার একটি ইতিবাচক বার্তা সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন।
গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেলা’ হিসেবে ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের। মন্ত্রী ফের সেই দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেন। প্রশাসনের লক্ষ্য, ২০২৬ সালের মধ্যে গঙ্গাসাগরকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন মেলা’ হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করা।
জিবিডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ কুমার পাত্র জানান, ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী যেন একটি পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুজো দিয়ে ফিরতে পারেন, সেটাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এই সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমেই তাঁরা বার্তা দিতে চাইছেন যে, সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া ‘গ্রিন মেলা’ গড়া সম্ভব নয়।নতুন বছরের শুরু থেকেই এই ‘গ্রিন প্রজেক্ট’-এর কাজ পুরোদমে শুরু হতে চলেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles