হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাসের এসআইআর এর শুনানির নোটিশ হাতে এসেছে প্রায় আড়াই মাস পর। অভিযোগ, এখানকার ৬টি বুথে প্রায় ১,১০০ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় নেই। যার মধ্যে বেশিরভাগই সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটার। এই ১,১০০ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় কেন নেই তা জানতে গত কয়েকমাস ধরে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যখন ছুটে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা, ঠিক তখন বুধবার আচমকাই নির্বাচন কমিশনের তরফে ওই ৬টি বুথের বিএলও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নোটিশ দিয়ে আসেন। আর সেই নোটিশে তাঁরা দেখেন, ‘১৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে তাঁদের দুপুর ৩ টে থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সাঁকরাইলের বিডিও অফিসে শুনানিতে গিয়ে হাজির হতে হবে’। ফলে শুনানির জন্য নির্ধারিত দিনের প্রায় আড়াই মাস পর তাঁদের শুনানিতে যাওয়ার জন্য নোটিশ হাতে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এরপরই সাঁকরাইলের মানিকপুর ফাঁড়ির সামনে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা নিয়ে এভাবে তাঁদের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা হলো। তাঁরা দাবি তোলেন, যারা এই গাফিলতি করেছেন কমিশনের সেইসমস্ত আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। এভাবে চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া যাবেনা। তাঁরা কেউ এই জিনিস মানবেন না। খবর পেয়েই এদিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাঁকরাইলের বিডিও। তিনি এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, ‘কাগজের ভুলকে ধামাচাপা দিতে এদিন বিডিও ওই ১৫ জানুয়ারির তারিখ কেটে দিয়ে নোটিশের তলায় ০৮.০৪.২০২৬ তারিখটি লিখে দেন।’ জানা গেছে, সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩৫, ২৩৬, ২৩৭, ২৩৮, ২৩৯ ও ২৪০ নম্বর বুথে প্রায় ১,১০০ ভোটারের নাম ভোটারের তালিকায় নেই। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দিতে হবে। কারণ তাঁরা শুনানির দিনের কথা আগে জানতেই পারেননি। আড়াই মাস আগে তাঁদের শুনানির দিন ছিলে। সেই নোটিশ আড়াই মাস পরে তাঁদের দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাঁকরাইল ব্লকের সভাপতি অমৃত বোস জানান, ‘‘নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনা নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে কমিশন এতগুলো সংখ্যালঘু ভাই বোনেদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিলে তা আমরা কমিশনের কাছে জানতে চাইছি। আমরা এদের বিপদে পাশে থাকব।



