বীরভূম, বোলপুর: বীরভূম জেলায় অবৈধ বালি ও কয়লা পাচার নিয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। এদিন বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহ-এ দুর্গাপূজা কার্নিভাল উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি একদিকে যেমন উৎসবের সাফল্যের প্রশংসা করেন, তেমনই অন্যদিকে জেলায় চলা অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, বোলপুরে এ বছরের দুর্গাপূজা কার্নিভাল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও বর্ণাঢ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব ও পূজা কমিটির অংশগ্রহণে কার্নিভাল ছিল দর্শকসমাগমে ভরপুর। তিনি জানান, “বোলপুরে খুব সুন্দর প্রোগ্রাম হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে এসে সত্যিই ভালো লাগছে।”
তিনি আরও বলেন, বোলপুরবাসীর সহযোগিতা এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার ফলেই এত বড় আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষভাবে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা-র উদ্যোগ ও তৎপরতার প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজ্যের নেতৃত্ব ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই এমন সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
তবে উৎসবের আবহের মাঝেই জেলায় বেড়ে ওঠা অবৈধ কয়লা পাচার নিয়ে সরব হন অনুব্রত মণ্ডল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেলার পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। “আমি বীরভূমের পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। তাঁর নির্দেশে জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অবৈধ কয়লা বোঝাই বেশ কয়েকটি গাড়ি আটক করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
অনুব্রত মণ্ডল দাবি করেন, সাধারণ মানুষও এ বিষয়ে সচেতন ভূমিকা নিচ্ছেন। গ্রাম বাংলার বহু বাসিন্দা সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অবৈধ কয়লা পাচারের খবর দিচ্ছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, প্রশাসন ও জনসাধারণ একসঙ্গে কাজ করলে অবৈধ কার্যকলাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
শুধু কয়লা নয়, অবৈধ বালি পাচার নিয়েও কঠোর বার্তা দেন তিনি। অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “অবৈধ বালি পাচারের বিষয়টি জেলা শাসক নিজে দেখছেন। প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বীরভূম জেলায় কোনওভাবেই বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। আইন অমান্য করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, বীরভূমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অবৈধ বাণিজ্য রুখতে দলীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও তাঁর এই অবস্থানকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে জেলায় স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
উৎসবের আনন্দের মঞ্চ থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে দৃঢ় বার্তা—এই দ্বৈত সুরেই বোলপুরের কার্নিভাল মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন অনুব্রত মণ্ডল।



