Friday, March 6, 2026
spot_img

খাদি মেলায় গ্রামীণ শিল্পের জাগরণ—পাটুলিতে শুরু হলো রাজ্যব্যাপী ঐতিহ্যের মহোৎসব


পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র শিল্পকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আবারও শুরু হলো বহু প্রতীক্ষিত খাদি মেলা ২০২৬। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের তত্ত্বাবধানে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যা গ্রামীণ শিল্পের বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেলা প্রাঙ্গণ পাটুলি মেলা গ্রাউন্ডে, বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি টাউনশিপে, পাটুলি থানার সন্নিকটে এবারের এই বিশাল খাদি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও এই মেলা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শিল্পী, কারিগর ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য এক বিশেষ সুযোগ এনে দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্টদের উপস্থিতি
মেলার শুভ উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং কারা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সম্মানীয় শ্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নাকাশিপাড়ার বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের চেয়ারম্যান শ্রী কল্লোল খাঁ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সম্মানীয় কৃষি ও পরিষদীয় মন্ত্রী শ্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, খাদি গ্রামীণ পর্ষদের অতিরিক্ত সচিব
শ্রী মৃদুল হালদার , মুখ্য নিবাহী আধিকারিক যাদবপুর বিধানসভার বিধায়ক শ্রী দেবব্রত মজুমদার, বিধানসভার উপমুখ্য সচেতক শ্রী দেবাশীষ কুমার, খাদি ডিরেক্টর, সহ আধিকারিক শ্রী বিশ্বজিৎ সরকার আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
তাঁদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করে এবং খাদি শিল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়। ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে মেলা । এই খাদি মেলা চলবে ৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
মেলা প্রাঙ্গণে এবারে প্রায় ১৮০টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তারা তাঁদের হাতে তৈরি খাদি বস্ত্র, গ্রামীণ হস্তশিল্প, মাটির সামগ্রী, তাঁতের পোশাক, প্রাকৃতিক প্রসাধনী, ঘর সাজানোর জিনিস, জুট প্রোডাক্ট, বাঁশ ও কাঠের শিল্পকর্ম সহ নানাবিধ সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।
গ্রামীণ শিল্পের বাজারমুখী উদ্যোগ
এই মেলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো খাদি ও গ্রামীণ শিল্পকে শুধু ঐতিহ্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা। রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু কারিগর ও শিল্পী তাঁদের শ্রম ও সৃষ্টিকে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পান এই মেলার মাধ্যমে।
খাদি শুধুমাত্র একটি বস্ত্র নয়—এটি স্বনির্ভর ভারতের প্রতীক, আত্মমর্যাদার প্রতিচ্ছবি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্ষদ কর্তৃপক্ষ।
শিল্পীদের উৎসাহ ও কর্মসংস্থানের পথ
খাদি মেলা কেবল কেনাকাটার জায়গা নয়, এটি হাজার হাজার শিল্পীর জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ যুবসমাজকে শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তোলে এবং কর্মসংস্থানের নতুন রাস্তা খুলে দেয়।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের পরিচিতি বাড়ছে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হচ্ছে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর উপর নির্ভরতা কমে শিল্পীরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের আহ্বান
রাজ্য খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন এই মেলায় এসে খাদি ও গ্রামীণ শিল্পজাত সামগ্রী কিনে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহ দেন।
এই খাদি মেলা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী উদ্যোক্তা ও প্রশাসন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles