হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ: প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন পরিবহণ ব্যবস্থা এখন একে অপরের সঙ্গে আরও বেশি আন্তঃসংযুক্ত (ইন্টারকানেক্টেড) হয়ে উঠছে। এর ফলে একদিকে যেমন লজিস্টিক খরচ কমছে, তেমনই পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিবহণ ব্যবস্থাকে প্রকৃতিবান্ধব করে তোলার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাইব্রিড ইলেকট্রিক নৌকা চালু হলে নদীপথে পরিবহণ আরও শক্তিশালী হবে এবং সবুজ গতিশীলতা (গ্রিন মোবিলিটি) বাড়বে। এর ফলে হুগলি নদীতে যাতায়াত সহজ হবে, দূষণ কমবে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রসার ঘটবে।মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এই ক্ষেত্রে দেশের নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গের হাতে থাকুক—এটাই তাঁর স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীপথ উন্নয়নের যে স্বপ্ন পশ্চিমবঙ্গ দেখছে, তা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। এর সুফল ইতিমধ্যেই কৃষক ও মৎস্যজীবীরা পাচ্ছেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই সব প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে এই প্রকল্পগুলির জন্য শুভেচ্ছা জানান।এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সি ভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, শ্রী শান্তনু ঠাকুর, শ্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের পটভূমি
প্রধানমন্ত্রী হুগলির সিঙ্গুরে ₹৮৩০ কোটিরও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও সূচনা করেন।তিনি বালাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট গেট সিস্টেমের শিলান্যাস করেন, যার মধ্যে রয়েছে একটি ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (IWT) টার্মিনাল এবং একটি রোড ওভার ব্রিজ।প্রায় ৯০০ একর জমির ওপর বালাগড়কে আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য বার্ষিক ক্ষমতা প্রায় ২.৭ মিলিয়ন টন। এই প্রকল্পের আওতায় দুটি বিশেষ কার্গো জেটি নির্মিত হবে—একটি কন্টেনার কার্গোর জন্য এবং অন্যটি শুকনো বাল্ক কার্গোর জন্য।এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারী পণ্য পরিবহণ শহরের ব্যস্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, ফলে কলকাতা শহরে যানজট ও দূষণ কমবে, সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি, উন্নত মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ও লজিস্টিক ব্যবস্থার ফলে আঞ্চলিক শিল্প, MSME এবং কৃষিপণ্য উৎপাদকরা কম খরচে বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন। এই প্রকল্প থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।এদিন প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক ক্যাটামারান নৌকার উদ্বোধন করেন। কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের তৈরি এই নৌকাটি দেশের অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণের জন্য নির্মিত ৬টি ইলেকট্রিক ক্যাটামারানের একটি। ৫০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম এই হাইব্রিড ইলেকট্রিক অ্যালুমিনিয়াম ক্যাটামারানটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক প্রপালশন সিস্টেম ও লিথিয়াম-টাইটানেট ব্যাটারিতে সজ্জিত। এটি সম্পূর্ণ শূন্য দূষণযুক্ত বৈদ্যুতিক মোডে এবং দীর্ঘ সময় চলাচলের জন্য হাইব্রিড মোডেও চলতে সক্ষম। এই নৌকা হুগলি নদীতে শহুরে নদীপথ পরিবহণ, ইকো-ট্যুরিজম ও শেষ-মাইল যাত্রী সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জয়রামবাটি–বরগোপীনাথপুর–ময়নাপুর নতুন রেললাইনের উদ্বোধন করেন। এটি তারকেশ্বর–বিষ্ণুপুর নতুন রেললাইন প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই রেললাইনের সঙ্গে সঙ্গে ময়নাপুর ও জয়রামবাটির মধ্যে নতুন ট্রেন পরিষেবাও চালু করা হয়, যা বরগোপীনাথপুরে থামবে। এর ফলে বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দারা সরাসরি রেল যোগাযোগের সুবিধা পাবেন, এবং নিত্যযাত্রী, ছাত্রছাত্রী ও তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত হবে আরও সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক।



