সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর : ২০১৬ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর জম্মু-কাশ্মীরের উরিতে সংঘটিত কাপুরুষোচিত পাকিস্তানি জঙ্গি হামলায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বীর সৈনিক বিশ্বজিৎ ঘড়াই। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর অঞ্চলের শ্রীধাম এলাকার অত্যন্ত কৃতি সন্তান এই শহীদের মহান আত্মবলিদান আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে গোটা দেশবাসী। যখন গোটা দেশ একযোগে উৎসবের আমেজে মেতে উঠতে চলেছে, ঠিক তখনই স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে শহীদ বিশ্বজিৎ ঘড়াইয়ের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অন্তিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মণ্ডল ৪-এর নেতৃত্ব ও স্থানীয় কর্মীরা।
প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ই আগস্ট অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন শহীদ জওয়ানের বাড়িতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এদিন সকালে শহীদ বিশ্বজিৎ ঘড়াইয়ের বাড়িতে সশরীরে উপস্থিত হন বিজেপি মণ্ডল ৪-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব ও কর্মীরা। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে শহীদের প্রতিকৃতিতে ফুল ও মাল্যদান করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি, এই শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে সবসময় থাকার বার্তা দিতে বৃদ্ধ বাবা ও মায়ের হাতে জোড়া ফুল তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। দলের পক্ষ থেকে পরিবারের হাতে সম্মানসূচক জাতীয় পতাকাও তুলে দেওয়া হয়, যা এই বীর পরিবারের দেশের প্রতি ত্যাগের প্রতীক।
তবে স্বাধীনতা দিবস এলেই এই পরিবারের বুক চিরে বেরিয়ে আসে একরাশ গভীর দীর্ঘশ্বাস। বছরের এই দিনটি এলেই শহীদের মা ও বাবা তাঁদের বীর সন্তানের বাঁধানো ছবি বুকে চেপে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের জলের বাঁধ যেন আর মানতে চায় না। যে দেশবাসীকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁদের বুক খালি হয়েছে, সেই দেশের জাতীয় উৎসবের দিনেই তাদের মনে পড়ে যায় সন্তানের না থাকার শূন্যতা। শহীদের পরিবারের এমন মর্মস্পর্শী দৃশ্য আজও এক বুক বেদনা ও গর্বের মিশ্রিত দোলাচল তৈরি করে গোটা গঙ্গাসাগর এলাকায়। দেশের সুরক্ষায় প্রাণ বিসর্জন দেওয়া সেই বীর সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এদিন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন উপস্থিত দলীয় কর্মীরাও।উপস্থিত বিজেপি মন্ডল চারের সভাপতি পিনাক্ষী মণ্ডল জানান, বিশ্বজিৎ ঘড়াই শুধু তাঁর পরিবারের নন, সমগ্র দেশের গর্ব। তাঁর এই আত্মত্যাগ চিরকাল সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে। এই বীর জওয়ানদের সাহসিকতা ও বলিদানের ফলেই আজ ভারতবাসী মুক্ত আকাশে স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই কর্মসূচি কেবল একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল দেশের বীর সন্তানের প্রতি একনিষ্ঠ কৃতজ্ঞতাবোধের এক মূর্ত প্রকাশ, যা গোটা শ্রীধাম এলাকাকে শোক ও শ্রদ্ধার চাদরে মুড়ে দিয়েছিল।



