শিল্পতালুকে ৩৩ সংস্থাকে জমি বণ্টন, তৈরি হবে জাহাজ ও ভেসেল নির্মাণ কারখানা | হাজার হাজার কর্মসংস্থানের আশায় শিল্পাঞ্চলের মানুষ
অরিজিৎ মন্ডল, ফলতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। শিল্পতালুকে মোট ৩৩টি সংস্থাকে জমি বণ্টন করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে টিটাগড় নেভাল সিস্টেম লিমিটেডকে প্রায় ৬৩ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই জমিতে জাহাজ ও বিভিন্ন ধরনের ভেসেল তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কারখানাটি চালু হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা জমি ঘেরার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তৎপরতায় দ্রুত বাকি অংশের জমিও ঘিরে ফেলার কাজ শেষ করে নির্মাণকাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। নতুন এই শিল্পপ্রকল্প ঘিরে আশার আলো দেখছেন ফলতা শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দা এবং স্থানীয় শ্রমিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, একসময় ফলতা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে শিল্পের যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরে একাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে নতুন করে শিল্প গড়ে ওঠার পাশাপাশি বন্ধ কারখানাগুলিও পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার আবেদন জানানো হয়েছে।
নতুন জাহাজ নির্মাণ কারখানা চালু হলে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবহণ, সরবরাহ, ছোট ব্যবসা এবং বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে শিল্পাঞ্চলে দ্রুত কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, ২৬ তারিখের আগেই কাজ শুরু করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফলে জমি ঘেরার পাশাপাশি পরবর্তী পর্যায়ে নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
শিল্পাঞ্চলে কোনও ধরনের তোলাবাজি বা বেআইনি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। তোলাবাজির অভিযোগ বা কোনওরকম সমস্যা দেখা দিলে নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।
নতুন শিল্পপ্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন ফলতা শিল্পাঞ্চলে ফের শিল্পের গতি বাড়বে, তেমনই দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা বহু মানুষের মুখে হাসি ফুটবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, নতুন কারখানার পাশাপাশি বন্ধ শিল্প ইউনিটগুলিও পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হলে ফলতা ফের দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে নিজের পুরনো অবস্থান ফিরে পাবে।



