কুনাল মালিক, ফলতা : ১৯ মে ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন বিধানসভা জুড়ে প্রচারে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকালে বানেশ্বরপুর শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু করেন প্রচার পর্ব। সভার শুরুতে একটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভাই অ্যাডভোকেট দেবাংশু পান্ডাকে বিধানসভায় আমার কাছে বড় ব্যবধানের ভোটে জিতিয়ে পাঠিয়ে দেবেন। বিধায়ক যেমন আপনাদের ভাল রাখবেন তেমনি মুখ্যমন্ত্রী ও আপনাদের ভালো রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন। উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, ফলতার রাস্তায় রাস্তায় আজ রাষ্ট্রবাদীরা বেরিয়ে পড়েছেন। গত ১০ বছর ভাইপোর সকল পুষ্পা আপনাদের ভোট দিতে দেয়নি। এবার ভোটে এত ভোটে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে জেতাবেন যাতে গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন দুটোই প্রতিষ্ঠিত হয়। এতদিন বিজেপি কর্মীদের যারা মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন আইনগত ভাবে তাদের বের করে আনবো বলে কথা দেন। যে সমস্ত বিজেপি কর্মীরা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের চাকরির দেওয়া হবে। ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ যেমন হবে সবটা হিসাবও হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, আগামী যে বাজেট পেশ করা হবে সেখানে ফলতার জন্য স্পেশাল প্যাকেজ আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারের কনভয় যত এগিয়েছে ফতেপুর, দিঘীরপাড়, হরিণডাঙ্গা, বেলচিঙ্গা, মল্লিকপুরের দিকে ততই মানুষের উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছে। রাস্তার দুদিকে আবালবৃদ্ধ বনিতারা কেউ শাখ বাজিয়ে, কেউ উলুধ্বনি দিয়ে কেউ বা ফুল ছুঁড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কে সংবর্ধনা জানিয়েছেন। বিলসঙ্ঘা গ্রামের কাছে এসে যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সহঘোষিত পুষ্পার বাড়ি সেখানে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে জমায়েত হওয়া মানুষদের সঙ্গে কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ সারেন মল্লিকপুরে ভোট পরবর্তী হিংসায় স্বপন মন্ডল নামে এক বিজেপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছিল তার বাড়িতে। ওই বিজেপির কর্মী স্বপন মন্ডল জেলেই মারা গিয়েছিলেন। দুপুর দুটো নাগাদ হঠাৎ খবর আসে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের অভিষেক ব্যানার্জীর স্নেহধন্য স্বঘোষিত পুষ্পা জাহাঙ্গীর খান সংবাদমাধ্যমের কাছে ঘোষণা করেন, ফলতার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি ২১ মে বিধানসভা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন। এই ঘটনা জানার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার প্রচারের গাড়ি থেকেই বলেন, এ সমস্ত তৃণমূলের নাটক। পুষ্পা ভালো করেই জানতো যে নির্বাচনে তিনি গোহারান হারতে চলেছে। তাই সহানুভূতি আদায়ের জন্য পুষ্পা পগার পার হয়ে গেল। মুখ্যমন্ত্রী সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে বলেন, ভাইপোবাবুর দেখা নাই রে ভাইপো বাবুর দেখা নাই রে।
প্রসঙ্গত, দুদিন আগে নির্বাচন থেকে জাহাঙ্গীর খান সরে দাঁড়ালেও যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন চলে গেছে তাই ইভিএমে তার নাম থাকবে। এছাড়াও সিপিএম এবং কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে দীর্ঘদিন পর ফলতার মাটিতে সাধারণ মানুষের যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। অনেকেই বলছেন দেবাংশু পান্ডা যে মার্জিনে জিতবেন তা একটা নজির হয়ে থাকবে।



