অরিজিৎ মন্ডল, ডায়মন্ড হারবার: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার। ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ডায়মন্ড হারবার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাওয়া ভাটা এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হওয়ার অভিযোগ উঠল অন্তত তিন জনের। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে এলাকার একটি মন্দিরে নিয়মিত পূজা দিতে যান অশোক ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎ করেই এলাকার এক বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত কয়েক জন ব্যক্তি এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। এরপর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে লোহার রড, বাঁশ, হাতুড়ি-সহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক জনকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয় বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ, হামলার জেরে গুরুতর জখম হন অশোক ভট্টাচার্য। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে দাবি পরিবারের। এমনকি হাতুড়ি দিয়ে তাঁর বুকের অংশে আঘাত করা হয়, যার ফলে পাঁজরের হাড়ে গুরুতর চোট লাগে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে এলাকার আরও দু’জন মহিলা আক্রান্ত হন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, হামলার সময় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় এলাকায়। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অশোক ভট্টাচার্য। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। খবর পেয়ে রাতেই ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে পৌঁছন ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দীপক কুমার হালদার। হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঘটনার পর ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনায় বিজেপি প্রার্থী দীপক কুমার হালদার দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবেই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “বিশেষ সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ অশোক ভট্টাচার্যকে খুনের চেষ্টা করেছে। তাঁকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে বুকের অংশে আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, দু’জন মহিলাকেও মারধর করা হয়েছে এবং এলাকার বেশ কিছু মহিলার শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা গোটা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছি। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এলাকায় যাতে শান্তি বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারেন, সেই বিষয়েও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।”
অন্যদিকে, ঘটনার জেরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ছোটখাটো অশান্তির পরিবেশ ছিল, যা মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় বড় আকার নেয়।
বর্তমানে পুলিশি নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তবে ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বহু বাসিন্দা। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।



