প্রতিভা অন্বেষণ কারিগর সিউড়ির মুনায়ম

0
149

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রতিভা অন্বেষণ কারিগর সিউড়ির আব্দুল মুনায়ম। নিজের চলার পথে হয়েছে অনেক ভুল দিতে হয়েছে সঠিক পরামর্শ না মেলার খেসারত। প্রত্যন্ত জেলা থেকে গিয়ে কলকাতার ময়দানে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে বহু প্রতিবন্ধকতার সাথে যুঝতে হয়েছে। নতুন প্রজন্মের প্রতিভা যেন এই সব কারনে হারিয়ে না যায় – ‘প্রতিভা খোঁজা’র নতুন দায়িত্ব পেয়ে সেই লক্ষ্যেই নিজেকে সঁপে দিতে চাইছেন কলকাতা ময়দানের সফল খেলোয়ার সফল কোচ আব্দুল মুনায়ম। সিএবি’র তরফে রাজ্যজুড়ে যুব প্রতিভা অন্বেষনের কর্মসূচী নেওয়া হয়। অনুর্ধ্ব-১৩ ও অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের ‘স্কাউটিং’র দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলার তিন সফল ক্রিকেটার – শরদিন্দু মুখার্জি,আইবি রায় এবং আব্দুল মুনায়মকে। আব্দুল মুনায়ম প্রত্যন্ত জেলা থেকে শত বাধা পেরিয়ে নিজের প্রতিভার সাথে পরিচিত করাতে পেরেছিল কলকাতার ময়দানকে তাই গ্রামবাংলার হাল-হকিকত সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল তিনি । ১৯৮৭ সালে মুনায়েম কলকাতায় পা দিয়েছিল বীরভূমের মত পিছিয়ে পড়া জেলার শহর সিউড়ি থেকে । ১৭বছর বয়সে অনুর্ধ-১৯ বাংলা দলে সূযোগ পেয়েছিলেন। বাংলার হয়ে খেলেছেন অনুর্ধ্ব-১৯। দুই দলেই সঙ্গী ছিল সৌরভ গাঙ্গুলী। সিনিয়র বাংলা দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে প্রথম একাদশে স্থান না মেলার আক্ষেপ আছে এখনো। আজাহারউদ্দিন চেয়েছিলেন মুনায়মকে নিজের রাজ্যের জন্য কিন্তু রাজ্য ছাড়ে নি ৩৮বছর কলকাতার মাঠে পড়ে থাকা মুনায়ম। বাড়ির পিছুটান ছিল। কলকাতার ক্লাব টেন্টে রাতের পর রাত কাটিয়ে ক্রিকেট খেলেছেন বাড়ির অমতেই। ক্রিকেটের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা থেকেই সম্ভব হয়েছে এটা বলে জানিয়েছেন স্বয়ং মুনায়ম। আব্দুল মুনায়ম বলেন, ‘‘গ্রামবাংলায় প্রতিভার অভাব নেই। অভাব আছে তাদের চেনা,তাদের উত্তরণের পথ মসৃন করা,প্রতিবন্ধকতার সাথে মোকাবিলার জন্য অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করার। নিজের ক্রিকেট জীবনে অনেক আক্ষেপ আছে। সেই আক্ষেপ যেন আর কাউকে করতে না হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে নতুন দায়িত্ব পালনে ব্রতী হব।’’ পাইকপাড়া থেকে ভবানীপুর, মোহনবাগান থেকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে খেলাই শুধু নয় – এই ক্লাবগুলোর কোচ হিসাবে আব্দুল মুনায়মের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন নেই কারো। অভিষেক পোড়েলের মতো খেলোয়াড়কে মাত্র ১৫বছর বয়সে ভবানীপুরের প্রথম একাদশে স্থান দেওয়ার মত সাহস দেখানো কোচ মনয়েমের ‘রতন’ চেনার পারদর্শিতাকে স্বাভাবিকভাবেই চিনতে ভুল করে নি সিএবি। মুনায়মের হাত দিয়ে উঠে এসেছে অসংখ্য খেলোয়াড়। সেই হাত দিয়েই এবার বাধা, প্রতিবন্ধকতার জেরে গ্রামবাংলার প্রতিভার হারিয়ে যাওয়ার মিছিল বন্ধ হোক— চাইছে বাংলার ক্রিকেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here