জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ZSI) আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে সংস্থার ১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন এবং ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা অ্যানিমাল ট্যাক্সোনমি সামিট (ATS) ২০২৬-এর আগে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করেছিল।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় জেডএসআই-এর অধিকর্তা ড. ধৃতি ব্যানার্জি বলেন যে, জেডএসআই-এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য, দেশের প্রাণী বৈচিত্র্যের নথিবদ্ধকরণ এবং বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং সুচিন্তিত নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাণী বৈচিত্র্যের বৈজ্ঞানিক নথিবদ্ধকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্থার ১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস স্মরণীয় করে রাখতে জেডএসআই তার ১৬টি আঞ্চলিক কেন্দ্র জুড়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ঐতিহ্যগত জ্ঞানের ওপর একটি অনন্য ১১১ ঘণ্টার হ্যাকাথনের আয়োজন করেছিল। এই প্রতিযোগিতায় মোট ৩৬০টি দল নিবন্ধিত হয়েছিল, যার মধ্যে ১৯২টি দলকে আঞ্চলিক স্তরের প্রতিযোগিতার জন্য তালিকাভুক্ত বা শর্টলিস্ট করা হয়েছিল। মোট ১৬টি আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রতিটির বিজয়ী দলগুলি দেরাদুনে জেডএসআই-এর উত্তর আঞ্চলিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিফাইনালে উন্নীত হয়। শীর্ষ পাঁচটি দল গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা ২৯ জুন, ২০২৬ তারিখে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের অঙ্গ হিসাবে, জেডএসআই ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে অ্যানিমাল ট্যাক্সোনমি সামিট ২০২৬-এর আয়োজন করবে। সামিট বা শিখর সম্মেলনটি যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দর যাদব।
৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে জেডএসআই দিবস উদযাপন চলাকালীন, মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যৌথভাবে ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনাগুলি প্রকাশ করবেন:
- অ্যানিমাল ডিসকভারিজ ২০২৫ (Animal Discoveries 2025)
- প্ল্যান্ট ডিসকভারিজ ২০২৫ (Plant Discoveries 2025)
এই প্রকাশনাগুলিতে নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতি এবং ভারতের জীববৈচিত্র্য ডেটাবেস বা প্রামান্য নথিভিত্তি ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে যুক্ত হওয়া নতুন প্রাণী ও উদ্ভিদের রেকর্ড নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনাও প্রকাশ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে:
- অ্যাবস্ট্রাক্ট বুক: অ্যানিমাল ট্যাক্সোনমি সামিট ২০২৬ (ইংরেজি এবং হিন্দি)
- রেকর্ডস অফ দ্য জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ATS ২০২৬-এর ওপর বিশেষ সংখ্যা)
- ফনা অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল (Fauna of West Bengal)
- জীব দর্পণ
- ফনাল ডাইভারসিটি অফ ড্রাই ডেসিডুয়াস ফরেস্টস অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল
- বেথুয়াডহরি, বিভূতিভূষণ, রামনাবাগান, বল্লভপুর এবং রায়গঞ্জ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য-সহ পশ্চিমবঙ্গের সংরক্ষিত অঞ্চলগুলির প্রাণী বৈচিত্র্য
এই উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে ‘ফনা অফ ইন্ডিয়া চেকলিস্ট’-এর সংস্করণ ৩.০ (Version 3.0)-এর উন্মোচন। হালনাগাদকৃত এই চেকলিস্টে ১০৫,৯৫৩টি প্রজাতি এবং উপপ্রজাতি নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যা এটিকে ভারতের প্রাণী সম্পদের অন্যতম বিস্তৃত তালিকায় পরিণত করেছে। ড. ধৃতি ব্যানার্জির নেতৃত্বে ১৮৫ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রস্তুত করা এই চেকলিস্টটিতে প্রোটিস্ট থেকে শুরু করে স্তন্যপায়ী প্রাণী পর্যন্ত ১২১টি ট্যাক্সন-নির্দিষ্ট তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উদযাপনের সময় চালু হতে চলা আরেকটি প্রধান উদ্যোগ প্যালিওইন্ডিয়া পোর্টাল (PaleoIndia Portal), যেটি জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এবং চেন্নাইয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাসটেইনেবল কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট বা উপকূল কেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনা(NCSCM) যৌথভাবে তৈরি করেছে। পোর্টালটি জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI) দ্বারা প্রদত্ত ভূতাত্ত্বিক তথ্যকে সংহত করে এবং সমস্ত ২৮টি রাজ্য ও আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে জীবাশ্ম প্রাণীর বিস্তৃতি নথিবদ্ধ করে। এই ডিজিটাল ভাণ্ডারে ম্যামালিয়া, রেপটিলিয়া, অ্যাভিস, পিসেস, অ্যামফিবিয়া, মোলাস্কা, আর্থ্রোপোডা, ফোরামিনিফেরা, একাইনোডার্মাটা এবং ইকনফোসিল-সহ ৫,০০০-এরও বেশি জীবাশ্মের নমুনার তথ্য রয়েছে।
জেডএসআই দিবস উপলক্ষে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি জোরদার করার লক্ষ্যে সংস্থাটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoUs) স্বাক্ষর করবে:
- সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য গবেষণা এবং অনুসন্ধানের জন্য সেন্টার ফর মেরিন লিভিং রিসোর্সেস অ্যান্ড ইকোলজি (CMLRE);
- সামুদ্র কেন্দ্রিক বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য মূল্যায়ন এবং সংরক্ষণের বিষয়ক পঠনপাঠনের জন্য সত্যভামা ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চেন্নাই; এবং
- আন্তঃবিষয়ক গবেষণা, পিএইচ.ডি. প্রোগ্রাম, কর্মশালা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ।
ড. ধৃতি ব্যানার্জি এও বলেন, এই যৌথ সহযোগিতাগুলি ভারতের বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং গবেষণা-ভিত্তিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে উন্নীত করবে।
১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন এবং অ্যানিমাল ট্যাক্সোনমি সামিট ট্যাক্সোনমিক বা শ্রেণীবিন্যাস সংক্রান্ত গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, ভারতের সমৃদ্ধ প্রাণী ঐতিহ্যকে নথিবদ্ধ করার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কর্মরত বিজ্ঞানী, প্রতিষ্ঠান ও নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় মঞ্চ হিসাবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



