২৫.০৬.২০২৬ তারিখে, আসানসোলের মাটি ভবিষ্যতের এক অঙ্গীকারকে বুকে আগলে নেবে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্করের গতিশীল নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক দেশীয় ফলের চারা বিতরণের মাধ্যমে “গ্রিন লেগাসি মিশন” (সবুজ উত্তরাধিকার মিশন) তার শিকড় ছড়াবে। এই অনুষ্ঠানের একটি প্রধান আকর্ষণ হিসেবে, জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর স্বয়ং আগামীকাল এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে এটির উদ্বোধন করবেন এবং এই মহৎ উদ্যোগে তাঁর সরাসরি সমর্থন জোগাবেন। এই উদ্যোগটি প্রতিটি অংশগ্রহণকারী কর্মচারীকে এক একজন “গ্রিন অ্যাম্বাসেডর” (সবুজ দূত)-এ রূপান্তরিত করার এবং রেলওয়ে পরিবারের সাথে ধরিত্রী মাতার একটি আবেগপূর্ণ বন্ধন গড়ে তোলার এক আন্তরিক আন্দোলন। ২৫.০৬.২০২৬ তারিখে আসানসোলে যে শিকড় রোপণ করা হচ্ছে, তা আসলে একটি অনেক বড় স্বপ্নের প্রথম স্পন্দন মাত্র।এই পুণ্যময় সূচনা শীঘ্রই সমগ্র জোনের প্রতিটি ডিভিশন এবং ওয়ার্কশপে প্রতিধ্বনিত হবে, যা সমগ্র রেল পরিবারকে একটি সত্যিকারের সবুজ পূর্ব রেলওয়ের জীবন্ত ও স্পন্দিত চাঁদোয়ায় পরিণত করবে।
আসানসোলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার শ্রী সংগ্রহ মৌর্যের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায়, এই কর্মসূচিটি একটি নিবিড় ও সামাজিক গল্পে রূপ নিয়েছে। ব্রাঞ্চ অফিসাররা কর্মচারীদের হাতে দেশীয় ফলের চারা তুলে দেবেন, যা তাঁরা তাঁদের সরকারি আবাসে বা উপযুক্ত স্থানে রোপণ করবেন এবং সেগুলিকে সুস্থ ও সতেজ গাছ হিসেবে বড় করে তোলার অঙ্গীকার নেবেন। এর সাথে কর্মচারীদের পরিবারকেও যুক্ত করা হচ্ছে—চারা রোপণের সময় তাঁরা ছবি তুলবেন এবং পরবর্তী বছরের ৫ই জুন নিজেদের ব্রাঞ্চের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সেই গাছের অগ্রগতির আপডেট শেয়ার করবেন। এর ফলে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ প্রতিটি পরিবারের যৌথ আনন্দের কারণ হয়ে উঠবে এবং একটি স্থায়ী ‘রেলওয়ে গ্রিন নেটওয়ার্ক’ গড়ে তুলবে।
এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে মানুষের সাথে প্রকৃতির পুনর্মিলন ঘটায়। প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে, এটি স্থায়িত্বের (সাসটেইনেবিলিটি) প্রতি পূর্ব রেলের প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করে, কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা বাড়ায় এবং একটি ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলে। ব্যক্তিগতভাবে, এটি তাজা ও পুষ্টিকর ফল প্রাপ্তির সুযোগ করে দিয়ে চমৎকার স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে, একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারাকে উৎসাহিত করে এবং একটি পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরি করে। পরিবেশগতভাবে, এই প্রকল্পটি সবুজের আচ্ছাদন বাড়াবে, বাতাসের গুণমান উন্নত করবে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কার্বন শোষণ করবে এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি করবে। এই চারাগাছগুলির পরিচর্যা এক শক্তিশালী ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশগত সচেতনতা জাগ্রত করবে এবং একটি স্থায়ী সবুজ ঐতিহ্য নিশ্চিত করবে।
এই সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কথা তুলে ধরে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন: ” ‘গ্রিন লেগাসি মিশন’ কেবল মাটিতে শিকড় পোঁতা নয়, বরং ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং আশা রোপণ করার নাম। আগামীকাল আসানসোলে রোপণ করা প্রতিটি চারাগাছ একেকটি জীবন্ত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে, যা আগামী প্রজন্মকে আশ্রয় ও খাদ্য জোগাবে এবং প্রমাণ করবে যে প্রগতি ও প্রকৃতি একে অপরের হাত ধরে একসাথে এগিয়ে যেতে পারে।”



