সুমন সারদার : আইপিএল ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দুর্দান্ত জয় তুলে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর বিরুদ্ধে। ২২০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটে জয় পায় মুম্বই, আর এই জয়ের মধ্য দিয়েই তারা ভেঙে দিল ১৪ বছরের পুরনো এক ব্যর্থতার রেকর্ড।

প্রথমে ব্যাট করে কলকাতা নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ২২০/৪ রান। দলের ব্যাটাররা ভালো শুরু দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই রান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় বোলাররা। কলকাতা নাইট রাইডার্স যখন দ্রুত রান তুলছিল, ঠিক সেই সময়ে শার্দুল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের রানরেটের গতি কিছুটা কমিয়ে দেন। তিনি মোট ৩টি উইকেট নেন, যা ম্যাচের মোড় ঘোরাতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সেট ব্যাটসম্যানদের আউট করে তিনি মুম্বইকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।

ডেথ ওভারেও শার্দুল নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে বড় রান আটকানোর চেষ্টা করেন, যা শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়ের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে কেন তাকে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে ধরা হয়।
ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় মুম্বইয়ের ওপেনারদের। বিশেষ করে রোহিত শর্মা খেলেন ৩৮ বলে দুরন্ত ৭৮ রানের ইনিংস, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রায়ান রিকেলটন, যিনি করেন ৮১ রান।
এই ম্যাচেই বড় মাইলফলক স্পর্শ করেন রোহিত। তিনি ভেঙে দেন বিরাট কোহলি-এর আইপিএলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড। নির্দিষ্ট একটি দলের বিরুদ্ধে সর্বাধিক রান করার তালিকায় এখন শীর্ষে রোহিত, যা তার কেরিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তবে ব্যাটসম্যানদের ঝলমলে পারফরম্যান্সের আড়ালে থেকেও শার্দুল ঠাকুরের এই বোলিং স্পেলই মুম্বইয়ের জয়ের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

মুম্বইয়ের এই জয় আরও একটি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০১২ সালের পর থেকে আইপিএলের প্রথম ম্যাচে জিততে পারেনি তারা। অবশেষে ২০২৬-এ এসে সেই দীর্ঘ ১৪ বছরের ‘জিঙ্কস’ কাটিয়ে শক্তিশালী সূচনা করল দলটি।






