বিশাল দাস, বীরভূম, বোলপুর : ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসা এবং কাটমানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বীরভূম জেলা পরিষদের প্রাণী ও মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ তথা ইলামবাজারের প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবি মুর্মুকে রবিবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালতে শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা, ভাঙচুর, হামলা এবং কাটমানি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের তদন্তে রবি মুর্মুর নাম উঠে আসে। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই ইলামবাজার থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য সংগ্রহ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করার জন্য এদিন আদালতে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়।
রবিবার সকালে ইলামবাজার থানার লকআপ থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রবি মুর্মুকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়।
আদালতে প্রবেশের আগে সাংবাদিকরা তাঁর গ্রেপ্তার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে রবি মুর্মু সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “আমি জানি না, তৃণমূল কংগ্রেস করি।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে কটাক্ষ করেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ভোট-পরবর্তী হিংসা ও কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনও খতিয়ে দেখা বাকি রয়েছে। সেই কারণেই রবি মুর্মুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। পুলিশ সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনে তাঁকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র, অভিযোগের সত্যতা এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বোলপুর মহকুমা আদালত রবি মুর্মুকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তদন্ত চলাকালীন প্রয়োজন হলে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজও চালানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূম জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের।



