Saturday, March 7, 2026
spot_img

নদীয়ায় বিএসএফ-এর বড় অভিযান: ৬৭ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনা বাজেয়াপ্ত, দুই পাচারকারী গ্রেপ্তার

জেলা – নদীয়া, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ : পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে ৩২ ব্যাটালিয়নের মালুয়াপাড়া সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জওয়ানরা একটি সফল অভিযান চালিয়েছে। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে বিএসএফ জওয়ানরা দুই ভারতীয় পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে সোনা পাচার চক্রকে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে। এই অভিযানে প্রায় ৬৭,৩৭,১০০ টাকা মূল্যের ৫১০ গ্রাম সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

১৭ই ডিসেম্বর সকালে মালুয়াপাড়া সীমান্ত ফাঁড়ির বিএসএফ কর্মীরা গোপন সূত্রে খবর পায় যে পাচারকারীরা বাংলাদেশ থেকে এই এলাকা দিয়ে ভারতে চোরাই সোনা আনার পরিকল্পনা করছে। সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত জওয়ানদের উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। সকাল ১০টা নাগাদ জওয়ানরা বাঁশঝাড়ের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। চ্যালেঞ্জ করা হলে লোকটি কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করে। তল্লাশি চালিয়ে দুটি প্লাস্টিকে মোড়ানো প্যাকেট থেকে চারটি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। বাজেয়াপ্ত সোনা সহ ওই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত পাচারকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় যে, তাকে তার নিজের গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে এই চালানটি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা রাঙ্গিয়াপোতা গ্রামে অভিযান চালায় এবং তার শনাক্তকরণের ভিত্তিতে তার বাড়ি থেকে আরও একজন পাচারকারীকে আটক করে। এরপর দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মালুয়াপাড়া সীমান্ত ফাঁড়িতে আনা হয়, যেখানে তারা স্বীকার করে যে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য তাদের অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিএসএফ-এর সতর্কতার কারণে সময়মতো এই পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

গ্রেপ্তারকৃত দুই পাচারকারীকে বাজেয়াপ্ত সোনা সহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা এই সফল অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে বিএসএফ জওয়ানরা সীমান্তের ওপার থেকে পাচারের মতো অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম, সতর্ক এবং নিবেদিতপ্রাণ। তিনি সীমান্তবাসীদের বিএসএফ সীমা সাথী হেল্পলাইন নম্বর ১৪৪১৯-এ অথবা ৯৯০৩৪৭২২২৭ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে এবং তথ্যদাতাদের পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles