বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর ফের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বীরভূম। এবার তৃণমূলের জেলা রাজনীতির পরিচিত মুখ অনুব্রত মণ্ডল (কেষ্ট)-এর বহু পুরনো এক মন্তব্যকে ঘিরে বোলপুরে দেখা গেল অভিনব ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ। আর সেই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক সাধারণ টোটো চালক — সুখেন ঠাকুর।
ভোটের আগে এক রাজনৈতিক সভা থেকে অনুব্রত মণ্ডল দাবি করেছিলেন, যদি বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পায়, তাহলে তিনি নিজের একদিকের মাথা ও একদিকের গোঁফ কামিয়ে বোলপুর বাজারে ঘুরবেন। সেই সময় তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। তবে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজেপির উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলেও, বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী সেই প্রতিশ্রুতি পালন করতে দেখা যায়নি অনুব্রত মণ্ডলকে। আর সেই বিষয়টিকেই সামনে এনে এবার ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদে শামিল হলেন বোলপুরের বাসিন্দা সুখেন ঠাকুর।
নিজের টোটোর পিছনে তিনি লাগিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডলের একদিকের মাথা ও গোঁফ কামানো একটি ব্যঙ্গচিত্র। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই টোটো, যা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল— সর্বত্রই এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সুখেন ঠাকুরের দাবি, “মানুষের সামনে কথা দিয়েও তা রাখা হয়নি। তাই সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই এই ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করেছি।” তিনি জানান, এই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে তিনি চার শতাধিক ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করে নিজের টোটোর মাধ্যমে প্রদর্শন করেছেন। তাঁর কথায়, ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মতামত তুলে ধরাই তাঁর উদ্দেশ্য।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোলপুরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। একাংশ এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল সমর্থকদের একাংশের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক কটাক্ষ করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে সব মিলিয়ে, ভোট পরবর্তী বীরভূমের রাজনৈতিক আবহে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সাধারণ এক টোটো চালকের উদ্যোগে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বহু পুরনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ, যা নিয়ে এখন সরগরম বোলপুর শহর।



