Thursday, April 23, 2026
spot_img

উন্নত উৎপাদনের যাত্রা এবং ভবিষ্যৎ

প্রীতম দাস: ৮ এপ্রিল কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির ‘ দ্যা জার্নি অফ অ্যাডভ্যান্স ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড রোড আহেড’ শীর্ষক একটি জাতীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় কলকাতায়।
সভার আলোচ্য বিষয় ছিল ভারতের উৎপাদন খাত ‘গ্লোবাল অ্যাসেম্বলি হাব’ থেকে উন্নীত হয়ে এখন শক্তিশালী নেতৃত্বের অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘প্রোডাকশন লিংকড ইনিসেন্টিভ’-এর মতো উদ্যোগগুলি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে এবং দেশীয় উৎপাদনকে বাড়িয়েছে।

আগামী পথ হলো ‘এডভ্যান্স ম্যানুফ্যাকচারিং’-এর দিকে অগ্রসর হওয়া, যেখানে উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়ে এআই, আইআইওটি, রোবোটিক্স, অটোমেশন**, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষতা ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারত শুধু একটি গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবেই নয়, বরং একটি উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাস থেকে উদ্ভূত সুযোগগুলোকেও কাজে লাগানো হবে। স্বাগত বক্তব্য রাখলেন সিআইআই জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান দিলীপ সাইনি। এছাড়াও বক্তব্য রাখলেন এটি মোটরসের স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনশিপের অন্যতম প্রধান ড. রেঙ্গারাজন শেষর্দ্রি, টাটা কেমিক্যালস লিমিটেডের চিফ ডিজিটাল আন্ড ইনফরমেশন অফিসার ভিক্রান্ত দেওরাস, টাটা স্টিলের চিফ এন্টারপ্রাইজ আইটি আন্ড ডিজিটাল কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অফিসার সরজিৎ ঝা, পিসিবিএল কেমিক্যাল লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নীলেশ কৌল, সিআইআই মাইনিং আন্ড কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট ডিভিশনের চেয়ারম্যান বিবেক ভাটিয়া, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওয়েবেলের চেয়ারম্যান সূর্তীর্থ ভট্টাচার্য।
এর সাথে ‘এআই-এর সমন্বয়সাধন’ শীর্ষক আরও একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে যে অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং-এর ভিত্তি হলো ভৌত সম্পদ এবং ডিজিটাল সিস্টেমের মধ্যে একটি নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ। এই সমন্বয় একটি প্রতিক্রিয়াশীল ও বুদ্ধিমান ইকোসিস্টেম তৈরি করে। এর মূল ভিত্তি হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অফ থিংস-এর নেটওয়ার্ক, যা কারখানার মেশিন, সেন্সর এবং যন্ত্রপাতিকে একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করে।
এআই ডিভাইস থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করে, এমন ধরণ ও অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করে যা মানুষের পক্ষে সেই গতি ও নির্ভুলতায় সম্ভব নয়। এআইয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন যেমন প্রেডিক্টিভ মেইনটেন্যান্স রিয়েল-টাইম কোয়ালিটি কন্ট্রোল এবং উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স সম্ভব হয়।
এআই এবং আইআইওটি-এর সাহায্যে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলো রিয়েল-টাইম প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে উৎপাদনের প্যারামিটার সমন্বয় করে, ফলে উৎপাদনে আরও বেশি নমনীয়তা আসে। কার্যকরভাবে ডেটা ব্যবহার দক্ষতা ও লাভজনকতা বৃদ্ধি করে। রিয়েল-টাইম মনিটরিং উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি মুহূর্তের লাইভ চিত্র প্রদান করে, যার মাধ্যমে ব্যবস্থাপকরা দ্রুত সমস্যা শনাক্ত ও সমাধান করতে পারেন।
ঐতিহাসিক ও রিয়েল-টাইম ডেটার উপর ভিত্তি করে প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিক্স ভবিষ্যৎ ফলাফল পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে, ফলে উৎপাদনকারীরা আগেই সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রস্তুতি নিতে পারেন। সভায় বক্তব্য রাখেন টাটা হিটাচির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট(ম্যানেজমেন্ট) আনন্দ কুমার, টেক্সম্যাকো রেল আন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার কুন্তল দাশগুপ্ত, টাটা স্টিলের অন্যতম প্রধান সরজিত ঝা, জে কে টায়ার আন্ড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের চিফ ডিজিটাল আন্ড ইনফরমেশন অফিসার সারাদ আগরওয়াল, এটি মোটরসের অন্যতম প্রধান ড. রেঙ্গারজান সেসার্দি, আইএসআই গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সির প্রধান(ইণ্ডিয়া) রবি রাঠোর।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles