নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা :২৪ জুলাই, ২০২৬ ভারতে ১৮৬০ সালে আয়কর ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি স্মরণে রেখে এবং রাষ্ট্র গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর ব্যবস্থার ভূমিকা উল্লেখ করে আজ পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের আয়কর দফতর ১৬৭তম আয়কর দিবস উদযাপন করল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী শ্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিশেষ অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানটি অলঙ্কৃত করেন টেনিস কিংবদন্তি শ্রী লিয়েন্ডার পেজ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের আয়কর দফতরের প্রধান মুখ্য আয়কর কমিশনার শ্রীমতী সুরভি বর্মা গর্গ এবং আয়কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকবৃন্দ।
মূল বক্তব্য রেখে আয়কর বিভাগ, প্রধান মুখ্য আয়কর কমিশনার শ্রীমতী সুরভি বর্মা গর্গ বলেন, ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া আয়কর আইন, ২০২৫-এর বাস্তবায়নযোগ্য কর ব্যবস্থাকে আরও স্পষ্ট, স্বচ্ছ এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক করার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তিনি নতুন আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং করদাতা পরিষেবা উন্নত করতে বিভাগের গৃহীত একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তাঁর বক্তব্যে।
শ্রীমতী গর্গ উল্লিখিত প্রধান উদ্যোগগুলির মধ্যে ছিল ‘প্রারম্ভ ২০২৬’ (PRARAMBH 2026), যেটি একটি সচেতনতামূলক প্রচার, শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু এবং ডিজিটাল সহায়তার মাধ্যমে করদাতাদের নতুন আয়কর আইন, ২০২৫ প্রদানের বিধানগুলির সঙ্গে পরিচিত করার এক অভিনব কর্মসূচি।
শ্রীমতী গর্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত চ্যাটবট ‘কর সাথী’ (KAR SAATHI) সম্পর্কেও বলেন, যেটি কর সংক্রান্ত প্রশ্নের সমাধানের জন্য করদাতাদের ২৪ ঘণ্টা বিশ্বস্ত সহায়তা প্রদান করে। এছাড়াও, তিনি’কর সেতু’ (Kar Setu)-র কথা জানান, যেটি করদাতাদের ১৯৬১ সালের আয়কর আইন থেকে ২০২৫ সালের আয়কর আইনে রূপান্তর সমপর্কে সম্যক জ্ঞান প্রদান করার জন্য তৈরি একটি যথোপযুক্ত নির্দেশ।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রীমতী গর্গ ‘সংবাদ’ (Samvaad)-এর উল্লেখ করেন, যেটি দূরদর্শন এবং আকাশবাণীর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে বৃহত্তর কর সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত একটি নতুন উদ্যোগ। তিনি করদাতার অভিজ্ঞতা ও পরিষেবা প্রদান উন্নত করতে বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসাবে উন্নত ‘ইনকাম ট্যাক্স ওয়েবসাইট ২.০’-এর কথার-ও উল্লেখ করেন।
নাগরিক-কেন্দ্রিক শাসনের ওপর জোর দিয়ে শ্রীমতী গর্গ জানান, বিভাগের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থায় এখন গড়ে ২৮ দিনের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ অভিযোগের সফল মীমাংসা সম্ভব হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘কর্মযোগী’-র মতো অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি আয়কর আধিকারিকদের নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে ধারাবাহিক আস্থা ও সহযোগিতার জন্য করদাতাদের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী শ্রী স্বপন দাশগুপ্ত দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে স্বেচ্ছায় কর প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি কর প্রদানের ক্ষেত্রে কলকাতাকে সামনের সারিতে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর-ও জোর দেন এবং বলেন, একটি সরলীকৃত ও করদাতা-বান্ধব কর ব্যবস্থা ব্যবসার সহজলভ্যতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর কর প্রদানকে উৎসাহিত করবে।
বিশেষ অতিথি শ্রী লিয়েন্ডার পেজ টেরিটোরিয়াল আর্মি ফান্ড কালেকশনে আয়কর বিভাগের অবদানের প্রশংসা করেন এবং রাষ্ট্র গঠনে করদাতাদের পালন করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি দেশের কর প্রশাসনকে শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছতা ও জন-আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার-ও প্রশংসা করেন।
প্রতি বছর ২৪ জুলাই পালিত আয়কর দিবস। ১৮৬০ সালে স্যার জেমস উইলসনের সাহায্যঃ ভারতে আয়করের ঐতিহাসিক সূচনা হয়। এই উপলক্ষটি জনপরিষেবায় অর্থায়ন, পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রসার এবং দেশের অগ্রগতিতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে করদাতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়।
এই উদযাপন একটি আধুনিক, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তি-চালিত কর প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য আয়কর বিভাগের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করে। সুদক্ষ, প্রতিক্রিয়াশীল এবং করদাতা-বান্ধব পরিষেবা প্রদান করার সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছায় কর প্রদানকে উৎসাহিত করার নিদর্শন-ও এই উদযাপন।



