অরিজিৎ মন্ডল, ডায়মন্ড হারবার: ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আমফান দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। সেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন ডায়মন্ড হারবার ১ নম্বর ব্লকের পারুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষ্মীপুর-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। ঝড়ে বহু মানুষের বসতবাড়ি ভেঙে যায়, চাষের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং বহু গবাদি পশুর মৃত্যু ঘটে। অনেক পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে আশ্রয় নেন প্রতিবেশীদের বাড়িতে বা সরকারি স্কুলে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুর্যোগের পর সরকারি ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের আশায় তাঁরা বারবার স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান, বিডিও এবং তৎকালীন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হলেও কোনও কার্যকর সহায়তা পাননি। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও অনেক পরিবারকে সরকারি ত্রাণ তো দূরের কথা, একটি ত্রিপল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ, সরকারি সাহায্য না পেয়ে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে নিজের জমি বিক্রি করেছেন, কেউ আবার ধার-দেনা করে নতুন করে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করেছেন। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দুর্ভোগের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের।
সম্প্রতি আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পারুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষ্মীপুর-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করে ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের সুবিধা অন্যত্র চলে গিয়েছিল। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বঞ্চিত পরিবারগুলিকে ন্যায্য সহায়তা দেওয়ার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
তবে গ্রামবাসীদের এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।



