বিশাল দাস, বীরভূম, শান্তিনিকেতন : বীরভূমের শান্তিনিকেতন থানার অন্তর্গত বীরকিচা গ্রামে পুলিশি আচরণকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশি মারধর, অশালীন আচরণ এবং ট্রাক্টর বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকে থানা চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামের বহু মানুষ। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের কয়েকজন কিশোর তাল কেটে ট্রাক্টরে করে বাড়ি ফিরছিল। অভিযোগ, সেই সময় শান্তিনিকেতন থানার একটি পুলিশ ভ্যান তাদের পথরোধ করে দাঁড় করায়। এরপর থানার এক পুলিশ কর্মী আচমকাই শিশু-কিশোরদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। তাঁদের মারধর করা হয় এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের সদস্যদের। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ জানালে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
ঘটনার জেরে ওই ট্রাক্টরটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যায়। এখানেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত। গ্রামবাসীদের দাবি, ট্রাক্টরে যে বিপুল পরিমাণ তাল ছিল, পরে সেটি আর দেখা যায়নি। বরং থানায় গিয়ে তাঁরা দেখতে পান ট্রাক্টরটি বালিভর্তি অবস্থায় রয়েছে। কীভাবে এবং কেন ট্রাক্টরের মালপত্র পরিবর্তিত হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে ঘিরে গ্রামে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই বীরকিচা গ্রামের বহু বাসিন্দা শান্তিনিকেতন থানার সামনে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং অভিযুক্ত কর্মীর অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, নিরীহ শিশু-কিশোরদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনার দাবিও তোলেন তাঁরা।
ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
