বিশাল দাস: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বোলপুর পৌরসভার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অমর শেখের বিরুদ্ধে বোলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন একাধিক বিজেপি কর্মী ও সমর্থক। সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপি কর্মী প্রীতম ভৌমিক, কালীচরণ ভান্ডারী-সহ কয়েকজন অভিযোগকারী বোলপুর থানায় উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বোলপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ১০ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আবহ তৈরি হয়। সেই সময় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, শারীরিক নিগ্রহ, শ্লীলতাহানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ওই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন শাসকদল-ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির পাশাপাশি বর্তমান পৌর ভাইস চেয়ারম্যান অমর শেখও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বহু বিজেপি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার সময় বিভিন্ন কারণে তাঁরা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় নতুন করে তদন্ত ও অভিযোগ গ্রহণের প্রেক্ষিতে তাঁরা থানার দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে, এই অভিযোগ সামনে আসতেই বোলপুরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিরোধী শিবিরের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী কর্মীদের উপর সংগঠিতভাবে অত্যাচার চালানো হয়েছিল এবং সেই ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, শাসকদলের একাংশের মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
যদিও অভিযোগে নাম জড়ানো অমর শেখের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, বোলপুর থানার পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হতে পারে বলেও সূত্রের দাবি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোলপুরের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।



