বিশাল দাস : বীরভূমের বোলপুর থানার অন্তর্গত কালিকাপুর অশান্তপল্লীতে এক ব্যক্তির উপর হামলা, বাড়িতে ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর রায় ওরফে টেনু। আক্রান্তের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে নিচুপট্টির মা নির্মলা লজ এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন দীপঙ্কর রায়। সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকে রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলায় গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের। দীপঙ্কর রায়ের স্ত্রী কস্তুরি রায় অভিযোগ করেন, হামলার পর অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাড়ির আসবাবপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ। কস্তুরি দেবীর আরও দাবি, বাধা দিতে গেলে তাঁকে এবং তাঁর ছেলে-মেয়েকেও মারধর করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীর দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে নিজেদের বিজেপি কর্মী বলে পরিচয় দেন। এছাড়াও এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছিল এবং পরিকল্পনা করেই এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই আক্রান্ত পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দীপঙ্কর রায় তৎকালীন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। বিজেপির অভিযোগ, সেই সময় বহু সাধারণ মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে অত্যাচার, ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছিলেন। বর্তমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির দাবি, বিষয়টি একতরফাভাবে দেখানো হচ্ছে।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিভাজনের জেরে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর নতুন করে সেই উত্তেজনা সামনে এসেছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বোলপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আক্রান্ত পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার জেরে কালিকাপুর অশান্তপল্লী এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন।



