নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধীদের একের পর এক উসকানিমূলক বক্তব্য এবং বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করলেন রাজ্য বিজেপি প্রধান মুখপাত্র শ্রী দেবজিত সরকার। তিনি বলেন, ভোটের আগে এবং ভোটের দিন পরিকল্পিতভাবে অসত্য, প্ররোচনামূলক ও বিভাজনমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “৭০-৩০ অনুপাতের কথা বলা, বাবরি কাঠামো পুনর্নির্মাণের কথা বলা কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করা—এই সমস্ত বক্তব্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্যাটার্ন রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, ভোটের দিন বিভিন্ন জায়গায় অসত্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা আসলে সম্ভাব্য পরাজয়ের আগে একটি ‘প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড’ তৈরি করার কৌশল, যাতে পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলার অজুহাত তৈরি করা যায়।
কংগ্রেসের পুনর্নির্বাচনের দাবি এবং অবস্থান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে শ্রী দেবজিত সরকার কটাক্ষ করে বলেন, “কংগ্রেস চাইলে দু’দিন আগে থেকেই এই দাবি করতে পারত। এমনকি আগের রাত থেকেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করতে পারত।” তাঁর বক্তব্য, ফলাফল সামনে আসার আগেই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা বিরোধীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকেই স্পষ্ট করে।
উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা এবং অশান্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধীরা দলবদ্ধভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে পশ্চিমবঙ্গে পুরনো হিংসাশ্রয়ী নির্বাচনী সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। “পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬০ বছর ধরে হিংসাত্মক নির্বাচনকে একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিজেপি বরাবরই অবাধ, শান্তিপূর্ণ, অহিংস ও পক্ষপাতহীন নির্বাচনের পক্ষে,” বলে তিনি জানান।
নন্দীগ্রামে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ এবং সংখ্যালঘু মহিলাদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে শ্রী দেবজিত সরকার বলেন, এই ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যাঁরা এই অভিযোগ করছেন, তাঁরা নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাচ্ছেন না কেন?” তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাছে জানানো উচিত এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।” কোনও রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধানকে এলাকা পরিদর্শনের সময় ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনা প্রসঙ্গে শ্রী দেবজিত সরকার বলেন, এই ঘটনা মানুষের গণরোষেরই প্রতিফলন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমেছে, বিভিন্ন ঘটনায় তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে।
নন্দীগ্রামে শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিয়ে বিরোধীদের মন্তব্যের জবাবে তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “যিনি বলছেন শুভেন্দু অধিকারীর জয় যথাযথ নয়, তিনি নিজে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিতে আসতে পারলেন না কেন?” তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিরোধীদের বাস্তব রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।”
শ্রী দেবজিত সরকার বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আর হিংসা, ভয়, বিভাজন এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের রাজনীতি চান না। মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। বিজেপি অবাধ, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পক্ষে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে লড়াই করবে।



