সুমন আদক, হাওড়া: অবশেষে ৪০ ঘন্টা পর হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে উদ্ধার নিখোঁজ রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন। খেলাধূলা ও পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার মানসিক চাপেই কি ২ দিন আগে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি ? তদন্তে নেমেছে পুলিশ। শনিবার সকালে তাঁকে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে সশরীরে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার দুধ কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিলেন ১৫ বছর বয়সী ওই প্রতিভাবান শুটার। তাঁকে শেষবার সিসিটিভি ক্যামেরায় হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দেখা গিয়েছিল। এরপর তাঁর খোঁজে রাজ্য পুলিশ চার সদস্যের সিট (SIT) গঠন করে তল্লাশি শুরু করেছিল। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২ দিন পর রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাঁকে হাওড়া থানার পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কিভাবে তিনি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন, কেউ তাকে নিয়ে চলে গিয়েছিল কিনা বা তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন কিনা সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। খুব সম্ভবত খেলাধূলা ও পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার তীব্র মানসিক চাপের কারণেই তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। দময়ন্তীর মা মৌমিতা রায় সেন এদিন সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আজ ভোরবেলা রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা থেকে আমার মেয়ে দময়ন্তী সেনকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। ঈশ্বরের অসীম কৃপায় সে আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। এই কঠিন সময়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন আমাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী, পুলিশ প্রশাসন, রাজ্য সরকার, সোশ্যাল মিডিয়ার অসংখ্য মানুষ, শুভানুধ্যায়ী এবং প্রত্যেক শুভাকাঙ্ক্ষী আপনাদের সকলের প্রতি আমাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমার মেয়ের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা, সহযোগিতা এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টার ঋণ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই দুঃসময়ে আপনারা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই ভালোবাসা ও মানবিকতা আমরা কোনওদিন ভুলব না। সকলের প্রতি আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ঈশ্বর আপনাদের সকলের মঙ্গল করুন।” এদিন মেয়েকে ফিরে পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে দময়ন্তীর বাবা শিক্ষক ধ্রুবজ্যোতি সেন লেখেন, “মেয়েকে আজ ভোরবেলা পেয়েছি। এই ২ দিন যারা দিনরাত আমার পরিবারের সাথে ছিলেন সকল শুভানুধায়ী ,রাজ্য সরকার সহ স্পোর্টস মিনিস্টার, ভবানী ভবন এর সকল অফিসার, হাওড়া পুলিশ প্রশাসন ( কমিশনার অফিস ), সকল অ্যাডভোকেট, আমার মেয়ের সকল রাইফেল কোচ যারা নিরন্তর খোঁজ নিয়েছেন ও সকল মিডিয়া ব্যক্তিদের সকলকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে শত কোটি ধন্যবাদ। ও শারীরিকভাবে একদম সুস্থ আছে।” ধ্রবজ্যোতি বাবু সাংবাদিকদের বলেন, সকালে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে জানান দময়ন্তীকে অন্য পোশাকে রামকৃষ্ণপুর গঙ্গার ঘাটের কাছে দেখা গিয়েছে। এরপরেই আমি সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি ও লঞ্চঘাটে জেটির এককোণে চুপ করে বসে রয়েছে। আমি যেতেই ও আমাকে বলে বাবা বাড়ি চলো। দময়ন্তী সম্ভবত পড়াশোনা ও খেলাধুলোর মধ্যে ঠিক সামঞ্জস্য রাখতে পারছিল না। তাই মানসিক চাপে ভুগছিল। কারণ ও এদিন ফিরে এসেই জানিয়েছে সে আবার খেলতে চায়। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা ধ্রুবজ্যোতি সেনের কন্যা দময়ন্তী সেন পরশু দিন ভোরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। শনিবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। দময়ন্তীর জবানবন্দি অনুযায়ী, খেলাধূলা ও পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার তীব্র মানসিক চাপের কারণেই তিনি বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিলেন এবং অবশেষে নিজের শহর হাওড়ায় ফিরে আসেন। তাঁর বক্তব্য এখনও সম্পূর্ণরূপে যাচাই করা হয়নি। তবে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তিনি হাওড়া থানার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি সেন্ট্রাল তৌসিফ আলি আজহার বলেন, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং সে সুস্থ আছে। কিশোরীর পরিবারে পড়াশোনা এবং খেলাধূলা নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। তাঁকে বর্তমানে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে তোলা হবে। কিশোরী কোথায় ছিল সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।উল্লেখ্য, প্রাক্তন অলিম্পিয়ান শুটার জয়দীপ কর্মকারের ছাত্রী দময়ন্তী। রাজ্যস্তরে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর সম্প্রতি জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পেয়েছিলেন প্রতিভাবান এই রাইফেল শুটার। তবে, তিনি কীভাবে এবং কী কারণে নিখোঁজ হয়েছিলেন পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। পরিবার সূত্রের খবর, দময়ন্তী তাঁর বাড়িতে জানান, হাওড়া স্টেশন থেকে তিনি শ্রীরামপুর স্টেশনে নামেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে এক দক্ষিণী মহিলার আলাপ হয়। তিনি ওঁকে খুব সাহায্য করেছেন। তিনি পোশাক দিয়েছেন। খাবারও খাইয়েছেন। কার্যত ১৫ বছরের দময়ন্তী সেনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে গত ২ দিন ধরেই উৎকন্ঠায় দিন কাটছিল পরিবার সহ ক্রীড়া মহলের। অবশেষে দময়ন্তী সুস্থ অবস্থায় সশরীরে ফিরে আসায় স্বস্তি মিলেছে সকলের।



