সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর : আর নয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লঞ্চ বা ভেসেলে নদীর পারাপারের দীর্ঘ অপেক্ষা। আর নয় জলপথের অনিশ্চয়তা। এবার কি সরাসরি ট্রেনেই পৌঁছে যাওয়া যাবে ঐতিহাসিক তথা পবিত্র স্থান সাগরদ্বীপে? এমনই এক স্বপ্ন পূরণের দাবিতে এখন তোলপাড় পুরো গঙ্গাসাগর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই দ্বীপজুড়ে এখন শুধুই উৎসবের আমেজ ও চরম কৌতূহল। মঙ্গলবার সাঁতরাগাছিতে আয়োজিত রেলের একটি বড় মেগা কর্মসূচির মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে এক ঐতিহাসিক দাবি জানান। তিনি প্রকাশ্যে অনুরোধ করেন, গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হোক এবং সরাসরি রেল পরিষেবা চালু করা হোক। প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তি ও মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগর মেলায় আগমন করেন। তবে কাকদ্বীপ বা লট নম্বর আট থেকে মুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে সাগরে পৌঁছাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। শুধু তীর্থযাত্রীই নন, সাগরদ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দাদেরও চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন কিংবা নিত্যদিনের যাতায়াতের জন্য একমাত্র ভরসা এই জলপথ।ফলে সরাসরি রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্বীপটি যদি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে সেখানে। সাঁতরাগাছির মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগের খবর সাগরদ্বীপে পৌঁছানোমাত্রই আনন্দে ভেসে যায় গোটা এলাকা। বুধবার সকাল থেকেই দ্বীপের গ্রামগুলোতে ধরা পড়ে অন্যরকম উৎসবের চিত্র। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আনন্দে মেতে ওঠেন। বুধবার দুপুরে গঙ্গাসাগরের মোড়ে মোড়ে স্থানীয় মানুষ একত্রিত হন। সেখানে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভেসে যান সবাই। বহু জায়গায় এলাকার মহিলারা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি মুখ্যমন্ত্রী দৃষ্টি দেওয়ায় দ্বীপের মানুষ একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। দ্বীপবাসীর কথায়, “গঙ্গাসাগর মেলা আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেলেও যাতায়াতের সমস্যা এতদিন বড় বাধা হয়ে দাঁড় দিয়েছিল।যদি সত্যিই ট্রেন চালু হয়, তবে শুধু পুণ্যার্থীদের যাতায়াতই সহজ হবে না, গঙ্গাসাগরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পর্যটনমূলক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। কৃষিজ পণ্য ও মাছ দ্রুত মূল ভূখণ্ডে পাঠানো সম্ভব হবে, উন্নত হবে চিকিৎসা পরিষেবা। বর্তমানে পুরো দ্বীপজুড়ে এখন শুধুই একই আলোচনা— কবে নাগাদ সত্যি সত্যিই সাগরের মাটিতে ছুটবে ট্রেন? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী আবেদনকে সাধুবাদ জানিয়ে সাগরদ্বীপের আপামর জনসাধারণ এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও রেল মন্ত্রকের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। সব মিলিয়ে, ট্রেনের আগমনের সম্ভাবনাই এখন সাগরের বাতাসে আনন্দের নতুন সুর ছড়িয়ে দিয়েছে।



