দিনকয়েক আগে হাওড়ার শিবপুরের মন্দিরতলায় গোলায় রাখা দূর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় এবার থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হলো। ঘটনার দিন প্রতিমা তৈরির গোলায় ঢুকে একাধিক দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে শিবপুর থানায় ডেপুটেশন জমা দেয় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ সংগঠনের হাওড়া জেলা কমিটি। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সংগঠনের সদস্যরা। পাশাপাশি, ওই ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখার আবেদন জানানো হয়। অভিযোগ, ঘটনার পর গতকাল রাতে ফের ওই প্রতিমা শিল্পীকে ‘হুমকি’ দেওয়া হয়। সেখানে রাস্তার উপর আর দুর্গাপ্রতিমা রাখা যাবে না বলে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। প্রতিমা শিল্পী ও কারিগরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়েছে মৃৎশিল্পীদের এই সংগঠন। আন্দোলনকারী সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মোহনলাল প্রজাপতি বলেন, “আমি আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব এই রামরাজ্যে যারা মৃৎশিল্পীদের প্রতিমা মা দুর্গার প্রতিমা ভেঙেছে তাদের যেন কড়া শাস্তি হয়। একজনকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা দেখে। এটা এর প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও মায়ের প্রতিমা ভেঙেছে। কিন্তু, আগেকার গভর্মেন্ট কোনও স্টেপ নেয়নি। এই রামরাজ্য গভর্মেন্টের মধ্যে পুলিশ যে স্টেপ নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই। আমরা চাইব মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করুন যাতে এমন ঘটনা আর আমাদের এই রামরাজ্য পশ্চিমবঙ্গে আর না ঘটে। আজকে পুলিশের সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন দিয়েছি। আমরা দাবি করলাম, একটা আন্ডার ট্রায়াল করে অভিযুকের যেন পানিশমেন্টটা হয়ে যায়। কনভিকশন যাতে হয়ে যায়। যাতে এর জামিন না হয়। আমাদের দাবি এইটাই, সাত দিনের মধ্যে ওকে চার্জশিটটা দিয়ে আন্ডার ট্রায়াল করে যাতে কনভিকশন করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাই প্রথম নয়, অনেক জায়গায় ঠাকুর ভাঙা হচ্ছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। পুজো কয়েকদিন বাকি। এই বৃষ্টিতে আমাদের কুম্ভকার ভাইরা বিভিন্ন ক্লাব থেকে ঠাকুর বায়না নিয়েছে। যদি সময়ের মধ্যে আমরা ঠাকুর না ডেলিভারি দিতে পারি তাহলে একটা অপমান। ফের যাতে এইরকম ঘটনা না ঘটে আমরা তাই চাই। গতকাল ফের শিল্পীকে থ্রেটিং দিয়ে গেছে যে তোমরা এখান দিয়ে উঠে যাও। এই সাহসটা কাদের ? আমরা চাইব যে যারা এইরকম করছে যারা থ্রেটিং দিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। আইনত কি করা যায় আমরাও তার চিন্তা-ভাবনা করছি।”



