Friday, October 9, 2026
spot_img

মহালয়ার পুণ্যলগ্নে গঙ্গাসাগরে উপচে পড়া ভিড়, তর্পণ ও পুণ্যস্নানের প্রস্তুতি তুঙ্গে; ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হলো পুরো কপিল মুনির আশ্রম চত্বর।

সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর : ​​রাত পোহালেই শনিবার ভোররাতে মহালয়ার পুণ্যলগ্নে গঙ্গাসাগরে তর্পণ ও পুণ্যস্নানের জন্য পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মাতৃপক্ষের তথা দেবীপক্ষের সূচনার এই পবিত্র মুহূর্তে প্রতি বছরের মতো এবারও সাগরের জলে ডুব দিয়ে পুণ্যলাভের আশায় মুখিয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক পুণ্যার্থী। স্নান ও তর্পণ শেষে পুণ্যার্থীরা কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিয়ে পুনরায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।ইতিমধ্যেই শুক্রবার সকাল থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এসে ভিড় জমিয়েছে গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন প্রান্তে, যার ফলে পুরো সাগরদ্বীপ চত্বর এখন মুখরিত। ​মহালয়ার এই পুণ্যলগ্নে যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য জেলা প্রশাসন, ব্লক প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাট থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর স্নানঘাট এবং কপিল মুনির আশ্রম চত্বর—পুরো এলাকাটি মুড়ে ফেলা হয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায়। কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাটে পুণ্যার্থীদের আসা এবং যাওয়ার পথে যাতে কোনো রকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, তার জন্য সাগর থানার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন রয়েছেন। তারা সারাক্ষণ পুণ্যার্থীদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ​অন্যদিকে, স্নানঘাট এবং কপিল মুনির আশ্রম চত্বর এলাকায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার পুলিশ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। জেলা ও ব্লক প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও মাঠে নেমেছেন।

শুক্রবার রাতেই সাগরের বিডিও অনন্ত কুমার গোস্বামী এবং গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি পার্থ সরকার সহ একাধিক আধিকারিক নিজে স্নানঘাট ও কপিল মুনির আশ্রম চত্বর এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন। জলপথেও প্রশাসনিক আধিকারিকদের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ​সবমিলিয়ে শনিবার ভোররাত থেকে শুরু হতে চলা এই পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে সাজসাজ রব পড়ে গেছে।আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে কপিল মুনির আশ্রম থেকে শুরু করে গোটা আশ্রম চত্বর এলাকা। পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফ থেকে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।তীব্র রোদ বা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে বেশ কিছু জায়গায় মাথার উপর ছাউনি বা তাঁবুর ব্যবস্থা রয়েছে। তীর্থযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য একাধিক অস্থায়ী টয়লেট এবং বিশেষ করে মহিলাদের জন্য চেঞ্জিং রুমের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।​পুণ্যার্থীদের যাতায়াত মসৃণ করতে জলপথে ভেসেল পরিষেবা এবং স্থলপথে বাস পরিষেবা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, সিসি ক্যামেরায় ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদার চালানো হচ্ছে কপিল মুনির আশ্রমের সামনে বিশেষ পূর্ণ স্থানের সময় যাতে কোন পুণ্যার্থী না সমুদ্রে দূরে যেতে পারে তার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা হয়েছে ‘ডব গেট’ তৈরি করা হয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মাইকিং এর মাধ্যমে এলাউন্স করা হচ্ছে যাতে কেউ তাদের দল ছুট না হয় বা যদি কেউ হয়ে থাকে এই মাইকিং এর মাধ্যমে ঘোষণা করা হচ্ছে এবং কচুবেড়িয়ায় এবং গঙ্গাসাগরে মেডিকেল ক্যাম্প ও করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পুণ্যার্থীদের অতিরিক্ত হুড়োহুড়ি ও ঠেলাঠেলি এড়িয়ে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে সুশৃঙ্খলভাবে কপিল মুনির আশ্রমে প্রবেশ করানো।

সব মিলিয়ে, প্রশাসনের এই সুচারু বন্দোবস্ত এবং কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা পরিবেশে আগামীকাল ভোররাত থেকে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী তাঁদের কাঙ্ক্ষিত পুণ্যস্নান ও তর্পণ সম্পন্ন করবেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles