সুভাষ চন্দ্র দাশ, জীবনতলা: ১৬ জুন রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হলেছিল নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর। এরপরই উত্তাল হয়ে উঠে ঘুটিয়ারি শরিফের বেতবেড়িয়া এলাকা। এলাকার বাসিন্দাদের দাবী ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। দুপুর বেলায় নিজের বাড়ির বিছানা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বছর চোদ্দোর এক ছাত্রীর দেহ। দেহে ছিল একাধিক আঁচড়ের দাগ ও গলায় কালসিটে ছাপ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে ওই ছাত্রীকে। যদিও ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, ‘বিষক্রীয়ায় ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে থেকে বর্ণ এবং গন্ধহীন বিষের নমুনা মিলেছে।’
জানা গিয়েছে, স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রীটি তার দাদার সঙ্গে থাকতো। প্রায় দু’বছর আগে পিতৃহীন হয় সে। সম্প্রতি, ছাত্রীটির মা প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ঘটনার দিন, ১৫ জুন রবিবার রাতে দাদা নাইট ডিউটিতে চলে যাওয়ার পর সোমবার দুপুরে মা কন্যার সঙ্গে দেখা করতে এলে এই দেহ দেখতে পান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তে পাঠায়।
মৃতদেহের পাশে পড়ে ছিল একটি গামছা, আর বিছানাতেই ছিল নিথর দেহ। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিশ ছাত্রীটির মা ও সৎ বাবাকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরীর মা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৭ জুন মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামবাসীরা শোককে রোষে পরিণত করে। বেতবেড়িয়া শিব মন্দির থেকে নেতাজি মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিবাদ মিছিল করেন তাঁরা। হাতে ছিল পোস্টার, মুখে ছিল স্লোগান — “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “দোষীদের ফাঁসি চাই”, “এনকাউন্টার করে মারো”।
এরপর এই ঘটনার জল গড়ায় জাতীয় মহিলা কমিশন পর্যন্ত।সোমবার দুপুরে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ার পার্সন অর্চনা মজুমদার ঘটনাস্থলে হাজীর হন। তিনি মৃত নাবালিকার পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলেন। ঘটনায় জড়িতদের যাতে কঠোর শাস্তি হয় সেই আশ্বাসও দিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ার পার্সন অর্চনা মজুমদার।
এছাড়াও এদিন তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে জানান, ‘যে ঘটনাটা ঘটেছে তা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। যেটা ভাষায় বলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।আপনার আমার ঘরে কন্যা সন্তান রয়েছে। ছোট থেকে তিলে তিলে বড় করছি।সেই সন্তান কে নৃংশস ভাবে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে।ঘরের সামনে তালা ঝুলছে আর পিছনের দরজা খোলা!পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি যদি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, কমিশন তা মেনে নেবে না।কমিশন সত্য উদ্ঘাটন করবে। ’
স্থানীয় বাসিন্দা হীরেন রায় বলেন, “এই মেয়েটিকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা চাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যেন এমন বর্বরতা আর কোনো মায়ের সন্তানকে না কেড়ে নিতে পারে।
অন্যদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠছে সর্বত্র। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
