রুমা খাতুন, সিউড়ি : সিনেমার মতো পুলিশি অভিযান বীরভূমে! ব্যবসায়ীর বাড়ির আলমারি খুলতেই থ সকলে! বিরাট দুই ট্রাঙ্ক যখন সামনে এল, হতবাক গোটা বাংলা।বীরভূমের বাসচালকের বাড়িতে ১৫ কেজি সোনাও কোটি কোটি টাকা পেল পুলিশ, জানালেন শুভেন্দু স্বয়ং। মঙ্গলবার গভীর রাতে আচমকাই টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। রাত থেকে শুরু হয় তল্লাশি। তাতেই ধরা পড়ে কোটি কোটি টাকা এবং কেজি কেজি সোনা।আবার কোটি কোটি টাকা। এ বার বীরভূমের মহম্মদবাজার। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের এক আত্মীয়ের বাড়িতে এখন সেই টাকা গোনা চলছে। শুধু টাকা নয়, কেজি কেজি সোনাও উদ্ধারও হয়েছে। এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, সরকারি সম্পতি বা জনগণের টাকা লুট করে যাঁরাই বিপুল সম্পত্তি করেছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। তিনি জানান, ওই বাড়ি থেকে ১৫ কেজি সোনা পাওয়া গিয়েছে।রাতে আচমকাই মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের হানা বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও তাঁর বাড়িতে রয়েছে পুলিশের বড় দল। চলছে তল্লাশি অভিযান। পরে টাকা গোনার জন্য পাঁচটি মেশিন, দুটি প্রিন্টার এবং বড় আকারের দুটি ট্রাঙ্ক বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয়দের দাবি, মনির মণ্ডল কয়েক বছর আগেও সরকারি বাস চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি সেই চাকরি ছেড়ে টুলু মণ্ডলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। অভিযোগ, তিনি টুলু মণ্ডলের পাথর-সংক্রান্ত ব্যবসার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই মহম্মদবাজারের ডেউচা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তাঁর একটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি হয়। জীবনযাত্রার এই দ্রুত পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের কৌতূহলী করে তুলছিল।স্থানীয় মহলে জোর গুঞ্জন, ওই বাড়ি থেকে ২০ কোটিরও বেশি নগদ টাকা এবং ১০ কেজিরও বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছে। তবে এই দাবি এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সংস্থা বা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার পরিমাণ জানতে তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে। যাচাই না হওয়া এই তথ্যকে নিশ্চিত বলে ধরা ঠিক হবে না।



