সুমন আদক, হাওড়া: ভোটের মাত্র ৭২ ঘন্টা আগেই স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগান ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির হাতাহাতিতে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হলো উত্তর হাওড়ার বামনগাছি এলাকায়। ‘জয় বাংলা’ এবং পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে ওই গন্ডগোল বাধে। রবিবার দুপুর বারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বামুনগাছির বি রোডে। সূত্রের খবর, উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই ভোজপুরি অভিনেতা সাংসদ রবি কিষাণজিকে নিয়ে রবিবাসরীয় প্রচারে বের হন ওই এলাকায়। সেই সময় তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে দিয়ে রোড শো চলাকালীন তৃণমূলের কর্মীরা প্রথমে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পাল্টা বিজেপি’র কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলেন। এতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দু’দলের কর্মীদের মধ্যেই ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বিরাট পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তারাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তোলে তৃণমূল। পাল্টা বিজেপির তরফ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাদের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়। এদিনের ঘটনা নিয়ে ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, “এটা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা। এই ব্যাপারে থানায় এবং নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হবে। বিজেপি বুঝে গেছে বাংলায় তাদের জায়গা নেই। সাত নম্বর ওয়ার্ডে তারা হারতে চলেছে। আমরা এখানে স্লোগান দিয়েছিলাম ‘জয় বাংলা’। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে। এটা পুরোটাই বিজেপির চক্রান্ত। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা এখানে শান্তভাবেই বসেছিলাম। আমাদের প্রশ্ন বাংলায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া কি অপরাধ ? বিজেপি বহিরাগতদের এখানে এনে অশান্তি বাঁধাচ্ছে। বিজেপি’র সঙ্গে সিআরপিএফ ঢুকে মেরেছে।” উত্তর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই বলেন, “গোরখপুরের সাংসদ তথা ভোজপুরি অভিনেতা রবি কিষাণজি এদিন আমাদের প্রচারে রোড শো করতে এসেছিলেন। তখন বামনগাছিতে তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। সেই সময় আমরা ওদের এড়িয়ে চলে গেলেও আমাদের র্যালির শেষের দিকে থাকা বিজেপি কর্মীদের ধরে ওরা মারধর করে। আমাদের মিছিলের উপর তৃণমূলের গুন্ডারা হামলা করেছে। আমাদের দাবি, যারা হামলা করেছে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে। আমরা এই নিয়ে হাওড়ার পুলিশ কমিশনারকে অভিযোগ জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশনেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। এইসব গুন্ডারা যদি ভোটের আগে গ্রেফতার না হয় তাহলে ভোটের দিন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কখনোই করা সম্ভব নয়।” এদিকে, এই বিষয়ে হাওড়া জেলা সদর আইএনটিটিইউসি’র সভাপতি অরবিন্দ দাস বলেন, “জয় বাংলা’ স্লোগান বিজেপির কাছে এক আতঙ্কের জায়গা। এদিন ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের সংগঠনের কর্মীরা পার্টি অফিসে বসেছিল। বিজেপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পার্টি অফিসে ঢুকে ছেলেদের মারধর করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তারা। তারা যেভাবে আমাদের পার্টির কর্মীদের মারধর করেছে তার বিচার আমরা চাই। তারা জানে তারা হারবে সেই জন্য শক্তি প্রয়োগ করে আমাদের কর্মীদের ভয় দেখাবার চেষ্টা করছে।”



