Home Uncategorized আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নয়, রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে ফুটবল ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন।

আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নয়, রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে ফুটবল ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন।

0

প্রশান্ত সরকার, ঝড়খালী : দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত সুন্দরবন লাগোয়া বাসন্তীর রানীগর গ্রামে আজ এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল মানুষ। রান্নাঘর ও সংসারের চার দেওয়াল পেরিয়ে গ্রামের প্রান্তিক মহিলারা শাড়ি পরেই ফুটবল খেলতে নামলেন মাঠে। খেলাধুলার এই আয়োজন শুধুই বিনোদনের নয়, ছিল আত্মবিশ্বাস, অধিকার এবং সামাজিক বদলের এক জোরালো বার্তা। গ্রামের বহু মহিলা যাঁরা সারা দিন ঘরের কাজ, মাঠের কাজ ও পরিবার সামলান, ভগবতী, রাখী, ময়না, সুলেখা, নিলিমারা তাঁরা আজ প্রথমবার মাঠে নেমে নিজেদের শক্তি ও সক্ষমতা প্রকাশ করলেন। পায়ে ফুটবল নিয়ে দৌড়, গোলের লড়াই আর সতীর্থদের উৎসাহ—সব মিলিয়ে মাঠ জুড়ে ছিল এক উৎসবের আবহ। অনেকেই জীবনে কখনও খেলাধুলার সুযোগ পাননি, অথচ আজ তাঁরা সাহসের সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েন। স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল নারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করা এবং তাঁদের নিজেদের প্রতি বিশ্বাস বাড়ানো। আয়োজক কমিটির রুমা সরকার বলেন “খেলাধুলার মাধ্যমে নারীরা শুধু শরীরচর্চাই নয়, দলগত কাজ, নেতৃত্ব ও আত্মনির্ভরতার পাঠও পান।” মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও দেখা যায় বিপুল উৎসাহ। গ্রামের পুরুষ, শিশু ও বয়স্করা করতালিতে মহিলাদের উৎসাহ দেন। অনেকের কাছেই এই দৃশ্য ছিল নতুন ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
এক অংশগ্রহণকারী মহিলা তনিমা হালদার বলেন, “আমরা সারাজীবন ঘরের কাজ করেছি। আজ মাঠে খেলতে পেরে মনে হচ্ছে আমরাও পারি।” এই ফুটবল ম্যাচ তাই শুধু একটি খেলা নয়, বরং গ্রামীণ নারীদের জীবনে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সূচনা হয়ে রইল। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল, সুযোগ পেলে গ্রামের মহিলারাও সব ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা ও সাহসের পরিচয় দিতে পারেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version