কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: দেশব্যাপী স্বচ্ছতা হি সেবা (SHS) ২০২৬ অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডে ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে হাওড়া স্টেশন থেকে পূর্ব রেলওয়ে জুড়ে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এবারের মূল ভাবনা ছিল “স্বচ্ছতা মে সহভাগ: স্বচ্ছ ভারত, বিকশিত ভারত”। আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর, পূর্ব রেলওয়ের চারটি ডিভিশন এবং তিনটি ওয়ার্কশপে “স্বচ্ছ পাঠশালা – যুব ফর স্বচ্ছতা দিবস” আয়োজন করা হয়। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা ও প্রদর্শনীমূলক অধিবেশন, স্বচ্ছতা জ্ঞান যাত্রা, স্বচ্ছতা এবং জল সঞ্চয় সংক্রান্ত সংলাপ, জল সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ, সাফাই মিত্র সুরক্ষা শিবির, পথনাটিকা এবং বিদ্যালয়গুলিতে বিষয়ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজিত হয়।

আসানসোল ডিভিশনে আসানসোল এবং অণ্ডালের তিনটি রেলওয়ে স্কুলে স্বচ্ছ পাঠশালা কর্মসূচি আয়োজিত হয়। শিক্ষার্থী এবং ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস (BS&G)-এর সদস্যরা আসানসোল ও অণ্ডালের ট্রাফিক কলোনিগুলির মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতা জ্ঞান যাত্রায় অংশগ্রহণ করেন এবং বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেন। BS&G সদস্যরা ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের কার্যালয় এবং আসানসোল স্টেশনে পরিবেশ সুরক্ষার উপর পথনাটিকাও পরিবেশন করেন। এনএইচএম (EnHM) আধিকারিকদের পরিচালনায় জল সঞ্চয় সংলাপ-এর মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। পাশাপাশি ইস্টার্ন রেলওয়ে হাই স্কুল, আসানসোল, ইস্টার্ন রেলওয়ে হাই স্কুল, অণ্ডাল এবং ইস্টার্ন রেলওয়ে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, আসানসোলে বিতর্ক ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শিয়ালদহ ডিভিশনে, ১৭ সেপ্টেম্বর শিয়ালদহে আধিকারিক এবং কর্মীদের মধ্যে ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা শপথ পাঠ করানো হয়। শিয়ালদহ, সোদপুর, কলকাতা এবং নৈহাটি স্টেশনে যাত্রী ও স্কুল পড়ুয়াদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ বিষয়ে পথনাটিকা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া, ব্যারাকপুর, হাবড়া, মাঝেরহাট, কল্যাণী, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর সিটি জংশন স্টেশন এবং ঘোলেশাপুর কলোনিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এই কর্মসূচিগুলিতে যথাযথভাবে বর্জ্য ফেলা, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং রেলওয়ে প্রাঙ্গণকে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হাওড়া ডিভিশনে তাদের অধিক্ষেত্র জুড়ে একাধিক সচেতনতামূলক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। হাওড়া ওল্ড কমপ্লেক্সে আয়োজিত একটি পথনাটিকার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার প্রতি নাগরিকদের যৌথ দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। হাওড়া, ব্যান্ডেল এবং রামপুরহাটে ডাস্টবিন সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করে দায়িত্বশীলভাবে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। বামনগাছি, আজিমগঞ্জ এবং ব্যান্ডেলে আয়োজিত সাফাই মিত্র সুরক্ষা শিবিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পিপিই কিট ও সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে স্যানিটেশন কর্মীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতি ডিভিশনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সাহেবগঞ্জে, ইস্টার্ন রেলওয়ে হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরিচ্ছন্নতার শপথ গ্রহণ করে এবং স্কুলের প্রার্থনা সভায় কবিতা আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করে। এর মাধ্যমে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা প্রচার করা হয়। মালদায়, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মালদা কোচিং ডিপো পরিদর্শন করে এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, বায়ো-টয়লেট এবং এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ETP)-এর কার্যপ্রণালী সম্পর্কে একটি সচেতনতামূলক অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে। এর ফলে রেলওয়ে পরিচালন ব্যবস্থায় স্যানিটেশন এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তারা বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করে।
পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, “স্বচ্ছ পাঠশালা – যুব ফর স্বচ্ছতা দিবস উদ্যোগের লক্ষ্য হল তরুণ প্রজন্মকে পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্বশীল পরিবেশগত আচরণের সক্রিয় দূত হিসেবে যুক্ত করা। ইন্টার্যাক্টিভ কার্যক্রম, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ব্যবহারিক প্রদর্শনের মাধ্যমে পূর্ব রেলওয়ে শিক্ষার্থী ও বৃহত্তর সমাজকে টেকসই অভ্যাস গ্রহণ, সঠিকভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পরিচ্ছন্ন রেলওয়ে প্রাঙ্গণ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে অবদান রাখার জন্য উৎসাহিত করছে।”



