সুমন আদক, হাওড়া: রাজ্যে ধর্মীয় পর্যটন ও প্রাচীন ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাতে হাওড়ার পাঁচলার বাউড়িয়া মোড়ে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাসঙ্ঘের উদ্যোগে আয়োজিত ১১তম বর্ষের শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী মহোৎসবের সূচনা করে এই ঘোষণা করেন তিনি। এদিন অনুষ্ঠানের সূচনা করে নিজের হাতে রাধাকৃষ্ণের আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদও বিতরণ করেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই রাজ্যে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট তৈরি করছি। সমস্ত পুরনো মঠ-মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব আমাদের।

পুরনো মঠ-মন্দিরের ঐতিহ্য নতুন করে ফিরিয়ে আনা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাজ্যের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলায় পুণ্যার্থীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দিরে জলাভিষেক এবং রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। মাহেশ, গুপ্তিপাড়া, মহিষাদল ও কলকাতার ইসকনের রথযাত্রার কথাও উল্লেখ করেন। তারাপীঠের কৌশিকী অমাবস্যা, গণেশ পুজো-সহ পরবর্তী উৎসবগুলির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উৎসব, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সামনে রেখেই রাজ্য এগিয়ে যাবে।” ভারতীয় সংস্কৃতি ও বাঙালির ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁর সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি। হাওড়ার ধূলাগোড়, বাউড়িয়া ও শ্যামপুরে অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এরকম কোনও ঘটনা আর কোনওদিন হবে না।” মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী হিসেবে এই বিষয়ে তিনি আশ্বাস দেন বলেও জানান। একইসঙ্গে হাওড়ার শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়েও আশার কথা শোনান মুখ্যমন্ত্রী। সাঁকরাইলে আমূলের কারখানার ভূমিপুজোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, সেখানে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। এর ফলে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

হাওড়ার জন্য আরও একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী দিনে জেলায় এসে কী কী কাজ হয়েছে এবং আরও কী কী করা প্রয়োজন, তা নিয়ে বিস্তারিত জানানোর কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ডিভিসি থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসক, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে শুক্রবার উদয়নারায়ণপুর ও আমতার পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি। আমতার বিধায়ক অমিত সামন্তকেও একই বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বিধায়ক অমিত সামন্ত, চিরণ বেরা, জেলাশাসক ডঃ পি দিপাপপ্রিয়া, বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রতুষ মণ্ডল সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



