নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি : বীরভূম জেলায় টানা বৃষ্টিতে জেলার একাধিক রাস্তার কজওয়ে ডুবে আছে জলের তলায় ফলে স্কুল,কলেজ পড়ুয়া থেকে হাসপাতালের রোগী ও গ্রামবাসীদের শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে । ব্রাহ্মণী নদীর দেবগ্ৰাম কজওয়ে, দুবরাজপুর ব্লকের মেজে ও বেলসারা গ্ৰামের কজওয়ে,খয়রাশোল ব্লকের বিনুইঘাট থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দরবারডাঙ্গাল গ্ৰাম যাওয়ার কজওয়ে জলের তলায় । প্রানের ঝুকি নিয়ে মানুষজন যাতায়ত করছে । স্বাধীনতার ৭৮বছর অতিক্রান্ত এখনো আদিম যুগের মত নদীতে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন গ্রামবাসীরা । বাঁশের সাঁকো এখন ভগ্নাবস্থায় । দুবরাজপুর ব্লকের লোবা গ্রামপঞ্চায়েতের জোপলাই ও দেবীপুরের মধ্য দিয়ে গেছে হিংলো নদী । যুগে যুগে ওই দুই গ্রামের বাসিন্দারা শীত,গ্রীষ্ম, বর্ষায় হিংলো নদীতে নিজেরাই বাঁশের সাঁকো তৈরী করে যাতায়াত করে । এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবি । গ্রামের বাসিন্দাদের কথায়, “স্বাধীনতার ৭৮বছর পরেও আমরা এখনো আদিম যুগের মত জীবনযাপন করি । তার বড়ো নিদর্শন আমাদের গ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছে হিংলো নদী । বর্ষাকাল এলেই আমাদের বুক দুরু দুরু করে । বহির্জগতের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি আমরা । যোগাযোগ বলতে হিংলো নদীর উপর বাঁশের ফরাস (সাঁকো) । সেই ফরাস আমাদের চাষাবাদ,স্কুল কলেজ,হাসপাতাল ও হাটবাজার করার একমাত্র অবলম্বন ওই বাঁশের সাঁকো । ভোট এলেই মেলে গালভরা প্রতিশ্রুতি । ভোট দিন এবার হবেই ব্রীজ । সাংসদ শতাব্দী রায়কে কতবার বলা হয়েছে । তাঁরা আমাদের কষ্ট উপলব্ধী করতে পারেন না ? ভোট যায় কিন্তু আমাদের প্রস্তাবিত জোপলাই-দেবীপুর হিংলো ব্রীজ আজও হয় নি । আমাদের মানুষ বলে কেউ মনেই করে না । আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি জোপলাই-দেবীপুর হিংলো নদীতে ব্রীজ করতে হবে এলাকার মানুষের স্বার্থে ।” বর্তমানে দীর্ঘদিনের বাঁশের সাঁকো ভগ্নাদশায় । মাঝে মাঝে ছেড়ে গিয়েছে । তাতেও মানুষ প্রানের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে । ময়ূরেশ্বর দুইনং ব্লকের কুন্ডলা গ্রামপঞ্চায়েতের বান্দোয়ান গ্রামের নিকট ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে কাঁদর মনিকর্নিকার কজওয়ে এখন জলের তলায় । অঞ্চলের প্রায় ১৫ গ্রামের অফিস যাত্রী থেকে স্কুল কলেজের পড়ুয়া থেকে রোগীদের এক কোমর জলে নেমে পার হতে হয় । বাইক চালকরা ওই জলেই বাইক নিয়ে যাচ্ছে তাদের গন্তব্যস্থলে । স্থানীয় বাসিন্দা খগেন মুর্ম্মুর কথায়, “বর্ষার সময় হলেই ময়ূরাক্ষী নদীর জল চলে আসে ওই কাঁদরে । ফলে সারা বর্ষাকাল আমাদের এইভাবেই যাতায়াত করতে হয় । সবচেয়ে কষ্ট শিশুদের তাদের বাবা দাদারা কাঁধে করে সেই কাঁদর পার করে দেয় আবার স্কুল ছুটি হলে ওইভাবেই নিয়ে আসে । এই পরিস্থিতে গ্রামের মানুষ কজওয়ের পাশে একটি বাঁশের মাচা তৈরি করেছে । সেটাও ভেঙ্গে পড়েছে ।” কুন্ডলা অঞ্চলের গ্রামবাসীদের অভিযোগ ১৫বছর ধরে তৃণমূল লুটে খেয়েছে । কত আবেদন নিবেদন করেছি প্রশাসনে কিন্তু কোন সুরাহা হয় নি । সিপিএম নেতা জয়ন্ত ভল্লা অভিযোগ করে বলে, “এলাকার মানুষের দাবি সেখানে একটি ব্রীজের কিন্ত নীরব প্রশাসন ।”



