Friday, March 6, 2026
spot_img

বিধানসভা নির্বাচন: কাটোয়াকে ‘পাখির চোখ’ করে ‘শস্যগোলা’য় ঘুঁটি সাজাচ্ছে কংগ্রেস

দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে।একাধিক সূত্রে শোনা যাচ্ছে, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রবল সম্ভাবনা।সেইমতো রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ের তৎপরতা তুঙ্গে।এই মুহূর্তে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সমরসজ্জার ব্লু-প্রিন্ট তৈরিতে ব্যস্ত।শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই ‘জল’ মাপছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।একই দৃশ্য ধরা পড়ছে রাজ্যের ‘শস্যগোলা’ পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়েও।তবে, দেখা যাচ্ছে এবারে বামেদের সঙ্গে জোটে অনীহার কারণে জাতীয় কংগ্রেস বেশ গাঝাড়া দিয়ে উঠে্ পড়েছে।রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব এই মুহূর্তে জেলাওয়ারি লাগাতার কর্মসূচিতে ব্যস্ত।এমনকী, তৃণমূল কংগ্রেসের তথাকথিত ‘দুর্ভেদ্য ঘাঁটি’ পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও(গতবার ১৬টি আসনেই তৃণমূল জয়ী হয়) কংগ্রেস এবারে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে ঝাঁপাতে প্রস্তুত।এজন্য মোট ১৬টি কেন্দ্রেই ‘হাত’ প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে।পূ্র্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলের কাছে একটা ‘দুর্বল’ দল বলে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।জেলার কোনও পুরসভা, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ক্ষেত্রে ক্ষমতায় নেই কংগ্রেস।শুধুমাত্র কাটোয়া এবং মেমারী পুরসভায় কয়েকজন কাউন্সিলর রয়েছেন।এই সীমিত ক্ষমতা নিয়ে এবারের বিধানসভা নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে শেষপর্যন্ত কংগ্রেস জনমানসে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে একাধিক মহল।যদিও কংগ্রেস জেলাজুড়ে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও দল কিন্তু ‘পাখির চোখ’ করছে কাটোয়া কেন্দ্রকেই।জেলার সীমান্তবর্তী কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন যাবত কংগ্রেসের অন্যতম ‘গড়’ ছিল।১৯৯৬ সাল থেকে টানা ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘হাত’ চিহ্নে কাটোয়ার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।এমনকী, তাঁর হাত ধরেই কংগ্রেস কাটোয়া পুরসভায় একটানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল।তবে, যাবতীয় হিসেবনিকেশ পাল্টে যায় ২০১৬ সালে।একদা কংগ্রেসের ‘দাপুটে’ নেতা রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দল বদলে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকাতলে শামিল হন।সেবার তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাসফুল প্রতীকের প্রার্থী হয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেস প্রার্থী শ্যামা মজুমদারকে(বাম-কং জোটপ্রার্থী) পরাজিত করেন।বর্ষীয়ান এই নেতার দলবদলের পরপরই কাটোয়ায় কংগ্রেসের সংগঠন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে।বেশ কিছুদিন এমনতর পরিস্থিতি চলতে থাকে।তারপর এই বিধায়কেরই ভাইপো রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কার্যত কাঁধে ভর দিয়ে কংগ্রেস কাটোয়ার বুকে ফের মাথা তুলে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে কাটোয়া পুরসভার কাউন্সিলর এবং জেলা কংগ্রেস কমিটির অন্যতম শীর্ষ নেতা।তাঁরই প্রধান উদ্যোগে কাটোয়ায় দলের নানাবিধ কর্মসূচি প্রায়শই রূপায়িত হচ্ছে।ওইসকল কর্মসূচি নিয়ে মানুষের কৌতূহলও যথেষ্টই।এবারে এই রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী রূপে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই দলের প্রদেশ কমিটির উদ্দেশে আবেদন পত্র পাঠিয়েছেন।জেলা কংগ্রেস সভাপতি ধূর্জটি বিজয় মাজী বলেন, কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থীপদের জন্য রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনপত্রটি আমি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিকে পাঠিয়ে দিয়েছি।এবার স্ক্রিনিং কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে কাটোয়ার বিধায়ক এবং পাশাপাশি তিনি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রূপে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কাটোয়ার দলীয় প্রার্থী রূপে তৃণমূল কংগ্রেস যদি এই বর্ষীয়াণ নেতাকেই বেছে নেয় তাহলে ‘কাকা-ভাইপো’র নির্বাচনী যুদ্ধের ময়দান রূপে নিঃসন্দেহে এটা চমকপ্রদ কেন্দ্র রূপে এবারে উঠে আসবে।কাটোয়ায় তৃণমূলের পাশাপাশি সিপিএম এবং বিজেপিও যথেষ্টই শক্তিশালী।তাই এটা বলাই যায় কাটোয়া বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্মুখী লড়াই আসন্ন।তবে, এবারের এই ‘হট’ সিটে তথাকথিত ‘দুর্বল’ কংগ্রেস কার ঘরের ভোট কেটে নিজের ঘরে তোলে এখন সেদিকেই তাকিয়ে কাটোয়াবাসী।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles