মার্চেন্টস’ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-র উদ্যোগে দ্য পার্ক হোটেলে অনুষ্ঠিত হল এমসিসিআই নলেজ সিরিজ-এর অধীনে নতুন শ্রম আইন ২০২৫ বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা। সভায় শ্রম সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দেশের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী ক্ষিতিজ জৈন, ডেপুটি চিফ লেবার কমিশনার (সেন্ট্রাল), কলকাতা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক, ভারত সরকার; শ্রী অরবিন্দ বহেতি, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, খৈতান অ্যান্ড কোং এবং প্রফেসর বনীতা পাটনায়ক, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (আইন), পশ্চিমবঙ্গ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জুরিডিক্যাল সায়েন্সেস।
শ্রী ক্ষিতিজ জৈন বলেন, আগে মজুরি, শিল্প সম্পর্ক, ওএসএইচ এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত বহু আইন ও সংজ্ঞা থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হত। নতুন শ্রম কোড এই বিভ্রান্তি দূর করে একক সংজ্ঞা প্রবর্তন করেছে। তিনি জানান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড ২০২০-এ জাতীয় স্তরের ন্যূনতম মজুরি, নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্মসংস্থান, ট্রেড ইউনিয়নের স্বীকৃতি এবং ৩০০-র বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানে স্ট্যান্ডিং অর্ডার সংক্রান্ত সংস্কার আনা হয়েছে। ওএসএইচ কোডে নিরাপত্তা, মহিলা কর্মীদের নাইট শিফট, অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট এবং কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
শ্রী অরবিন্দ বহেতি জানান, কেন্দ্রীয় শ্রম আইন রাজ্যগুলির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলেও সংবিধানের ২৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় আইন প্রাধান্য পায়। তিনি মজুরি প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো এবং ছুটি ও ওভারটাইম সংক্রান্ত বিধানগুলি ব্যাখ্যা করেন।
প্রফেসর বনীতা পাটনায়ক বলেন, বেসরকারি ক্ষেত্র সাধারণত রাজ্য সরকারের আওতায় পড়বে এবং ওএসএইচ কোডে একক নিবন্ধনের সুবিধা থাকবে। তিনি চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল কমিটির বিধান নিয়েও আলোকপাত করেন।
এমসিসিআই-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রী মুনিশ ঝাঝারিয়া তাঁর স্বাগত ভাষণে বলেন, নতুন শ্রম আইন ‘ভিকসিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এমসিসিআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রী অনিরুদ্ধ ঝুনঝুনওয়ালা।



