নিজস্ব প্রতিনিধি, ক্যানিং : কোকিলের কু হু কু হু ডাক,কিংবা শালিকের কিচির মিচির শব্দ পুজোমন্ডপের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। চড়ুই থেকে চিল। শকুন থেকে শালিক । সবই আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। মানব সভ্যতার যত উন্নতি হয়েছে, ততই হারিয়ে গিয়েছে গ্রাম-গঞ্জের মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ানো পাখিরা। আধুনিক সভ্যতার ফলে সবথেকে বিলুপ্তির পথে এইসব পাখিরা। বেশ কিছু পাখি ইতিমধ্যেই অস্তিত্বের সংকটে। সব মিলিয়ে বিলুপ্তিপ্রায় প্রজাতির পাখিদের কে বাঁচাতে এবং সমাজ ও পরিবেশের প্রয়োজনে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবার সচেতনতার বার্তা নিয়ে উপস্থিত ক্যানিংয়ের এক পূজা কমিটি।
সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিং শহর । ক্যানিংয়ের হাইস্কুল পাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির এবারের ভাবনা ‘উড়তে মোদের মানা’। ৭৭ বছরে পদার্পণ করলো এই পুজো কমিটি। স্বাধীনতার পর ক্যানিংয়ের এই পূজা চালু হয়। আর চলে আসছে এযাবৎ পর্যন্ত। ক্যানিংয়ের প্রাচীনতম পুজো কমিটির মধ্যে অন্যতম একটি পুজো হলো এটিই। প্লাইউড এবং মাটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবারের এই পুজো মন্ডপ। মাটিকে ও পরিবেশকে বাঁচাতে পুরোপুরি প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।পাশাপাশি মন্ডপের চারিদিকে ৬০০০ মাটির ভাঁড় দিয়ে কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়েছে পাখির বাসা। সেখানে থাকবে শালিক,শকুন,চিল,চড়ুই,ময়না,তোতা,কাক,পানকৌড়ি,বক ,শঙ্খচিল,কোকিল,পেঁচা,পায়রা সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।যা পুজো মন্ডপের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
এ বিষয়ে এই পুজো কমিটির সম্পাদক অরিত্র বোস বলেন, ‘সমাজ ও মানব সভ্যতা এগিয়ে চলেছে। আর এর ফলে তৈরি হচ্ছে উঁচু উঁচু টাওয়ার, বিল্ডিং বসতবাড়ি। যার জন্য বিপন্ন হচ্ছে চড়ুই শকুন ও চিলের মত পাখিরা। তাই তাদের বাঁচাতে মানুষকে সচেতন করতে এবারের ভাবনা ‘উড়তে মোদের মানা’।কাঠের বিভিন্ন পাখি তৈরি করে রাখা হয়েছে প্যান্ডেলে। মন্ডপ শয্যায় ব্যবহার করা হচ্ছে পাখি। আর ৭৭ তম বর্ষের পুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির খাঁচায় বন্দি ৭৭ টি জীবন্ত পাখিকে পিঞ্জর মুক্ত করা হবে উদ্বোধনের দিন মহাচতুর্থীতে। মুক্ত বাতাসে তাদেরকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।’
সব মিলিয়ে সুন্দরবন সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে এই পূুজো প্যান্ডেলে অন্যান্য বারের মতো এবারও হবে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
