Home Uncategorized ২০২৭ গঙ্গাসাগর মেলা: উপকূলের ভাঙন রোধ ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে সেচ...

২০২৭ গঙ্গাসাগর মেলা: উপকূলের ভাঙন রোধ ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে সেচ মন্ত্রী অরূপ দাস

0

সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর : ​২০২৭ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার তীব্র নদী ও সমুদ্র ভাঙন রোধ এবং পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ভাঙনপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যান রাজ্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।কাকদ্বীপের লট নম্বর ৮, কচুবেড়িয়া এবং গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি আশ্রম সহ একাধিক সংবেদনশীল অঞ্চল সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন সেচ মন্ত্রী অরূপ দাস ও অন্যান্য আধিকারিকরা।​এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে সেচ মন্ত্রী অরূপ দাস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, সেচ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব এবং সাগরের স্থানীয় বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল সুন্দরবন পুলিশ জেলার এসপি বিশ্ব চাঁদ ঠাকুর কাকদ্বীপ এবং গঙ্গাসাগরের এসডিপিও সাগর থানা এবং গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। মেলা শুরুর আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে এবং নদী বাঁধের অবস্থা কেমন রয়েছে, তা দেখতেই এই অভিযান।
​প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার প্রথমে কাকদ্বীপের লট নম্বর ৮ থেকে মুড়িগঙ্গা নদীতে ভেসেল চলাচলের পয়েন্টগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘুরে দেখেন। পুণ্যার্থীদের মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কচুবেড়িয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকাতেও তাঁরা দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান এবং সেখানকার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। এরপর কচুবেড়িয়া থেকে সরাসরি গঙ্গাসাগরে এসে পৌঁছান প্রতিনিধিরা। সেখানে প্রথমে এক নম্বর স্নানঘাট এবং পরবর্তীতে এক নম্বর থেকে দুই নম্বর স্নানঘাট পর্যন্ত পুরো উপকূলবর্তী এলাকা পায়ে হেঁটে ও গাড়িতে ঘুরে দেখেন সেচ মন্ত্রী সহ অন্যরা। এই পুরো পথটিতে ভাঙনের তীব্রতা এবং বাঁধগুলির বর্তমান পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে সেচ দফতরের আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন মন্ত্রী। পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে ঐতিহ্যবাহী কপিল মুনির আশ্রমে গিয়ে পুজো দেন এবং মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। ​সারা দেশ তথা বিদেশ থেকেও প্রতি বছর গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। মুড়িগঙ্গা নদীর পার ভাঙন এবং উপকূলের দুর্বল বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই এক বড় সমস্যা। মেলা চলাকালীন যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে, সেদিকেই এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।​সরেজমিন পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট দফতরের সমস্ত ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক করেন সেচ মন্ত্রী অরূপ দাস বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মেলা শুরুর ঢের আগেই সমস্ত প্রয়োজনীয় সেচ কাজ, নদী বাঁধ মেরামত এবং স্থায়ী ভাঙন রোধের কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্য সরকারের এই আগাম ও কঠোর পদক্ষেপে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি যে ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version