সুমন আদক, হাওড়া: উত্তর হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাই সোমবার লোকভবনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর দপ্তর ঘোষণা হয়নি। প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এদিন তাঁর বিধানসভা এলাকায় ফিরলে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এলাকায় কার্যত উৎসব শুরু হয়ে যায়। বিজেপি কর্মীরা গেরুয়া আবির উড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। ঢাক-ঢোল, ব্যান্ড-বাজনার তালে সমর্থকরা নাচে-গানে মেতে ওঠেন। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। বিভিন্ন জায়গায় ফুলের মালা পরিয়ে উমেশ রাইকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘আমি বিধায়ক হয়েছিলাম। সরকার আমাকে মন্ত্রী করেছে। তবে এখনও জানা নেই আমি কোন দপ্তরের মন্ত্রী। হাওড়া থেকে আমি একজন মন্ত্রিসভার প্রতিনিধি। মুখ্যমন্ত্রী উন্নত হাওড়া দেখতে চান। আমার যা ভূমিকা থাকবে আমি তাই করব। ইতিমধ্যে আমরা হাওড়া জেলা হাসপাতাল, সংশোধনাগার, হাওড়া পুলিশ মর্গ, সত্যবালা আইডি হাসপাতাল, পরিদর্শন করেছি। বুধবার ক্যাবিনেট মিটিংয়ে আমার প্রায়োরিটির কথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানাব। এরমধ্যে সব থেকে বেশি প্রায়োরিটি থাকবে হাওড়ার জল নিকাশি ব্যবস্থা। তার জন্য ৪,৭০০ কোটি টাকার ডিপিআর তৈরি হয়েছে। হাওড়া জেলা হাসপাতালকে মাল্টিস্পেশালিটি সুপার হাসপাতালের রূপান্তরিত করার প্রস্তাব দেব। হাওড়ার মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পায় তার প্রায়োরিটি থাকবে। যেখানে হিন্দি ইউনিভার্সিটি আছে সেখানে একটা ভালো কলেজ হোক। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ডিলিমিটেশন করে ভোট করা হোক। এমন বিভিন্ন বিষয়ে আছে যেগুলি আমার প্রায়োরিটির মধ্যে আছে।

ভোট হলেই অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বোর্ড থাকলে একটা একটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তার সমাধান করতে পারে। এ ব্যাপারে এডমিনিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা। বিধায়ক হিসেবে আমি খুশি ছিলাম। মন্ত্রিত্ব পাওয়া আমার কাছে একটা বোনাস। বিধায়ক হয়ে আমি রাজা ছিলাম। মন্ত্রিত্ব পেয়ে আমি মহারাজা হয়েছি। যতদিন আমার মন্ত্রিত্ব আছে ততদিন আমি হাওড়ার উন্নয়নের কাজ করতে পারব। এটাই আমার চেষ্টা। ৫০ বছর ধরে হাওড়া শুধু উন্নয়নের কথা শুনেছে। উন্নয়ন দেখেনি। ডবল ইঞ্জিন সরকার কাকে বলে ৬ মাসের মধ্যে মানুষ দেখতে পাবে। হাওড়ার শিল্প, শিক্ষা ব্যবস্থা প্রভৃতি অনেক কিছু আছে। সেই ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এটাই আমার লক্ষ্য। আমি মানুষের কাছে যাব। তাদের থেকে সাজেশন নেব। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বর্ষীয়ান নেতা, যাঁদের অভিজ্ঞতা আছে সে তৃণমূলের হলেও তাঁদের কাছেও যাব। তাঁদের কাছ থেকে জানতে চাইব তাঁরা কি চেয়েছিলেন। তাঁরা কেন কোন কাজ করতে পারেননি। সকলের কাছ থেকে সাজেশন নিয়ে কিভাবে হাওড়াকে উন্নত হাওড়া করা যায় সেই চেষ্টাই করব।’ সাংবাদিকদের অন্যান্য প্রশ্নের উত্তরে উমেশ রাই বলেন, ‘২০২১ সালে কয়েকশো বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। তারপর এই সরকার আমরা পেয়েছি। আমরা হিংসার মধ্যে নেই। কারও বিরুদ্ধে আমরা প্রতিশোধ নেবনা। কিন্তু মানুষের রোষের ব্যাপারে কি বলবেন ? বিজেপি কর্মীদের তো আমরা আটকে দেব। কিন্তু যারা প্রতারিত হয়েছেন, যাদের বাড়ির লোকদের মারা হয়েছে তারা যদি প্রতিবাদ করেন তার মধ্যে বিজেপি কি করবে ? ২০২১ সালে তৃণমূল তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর হাজার হাজার বিজেপি কর্মীরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালাতে বাধ্য হয়েছে। তাঁদের বাড়িঘর লুট হয়েছে। আগুন লাগানো হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন এটাই মানুষের রোষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতির নির্দেশ কোনমতেই তৃণমূলের কোনও নেতাকে বিজেপিতে যোগ করানো যাবে না। বিশেষ করে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, মামলায় অভিযুক্ত তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। এরকম নেতাদের ভারতীয় জনতা পার্টি নেবেনা। সব দলেই ভালো এবং খারাপ লোক থাকে। সে তৃণমূলেই হোক, সিপিএম হোক, কংগ্রেস হোক বা বিজেপিতে হোক। কিন্তু এখন নির্দেশ কোনও টিএমসিকে বিজেপিতে যোগদান করতে দেওয়া যাবে না।