সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং – একদা সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিংয়ের মাটি কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের পদধূলিতে ধন্য। সেই ঐতিহাসিক ২৯ ডিসেম্বর উপলক্ষে সোমবার দিনটি স্মরণ করে পালিত হল বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠান।এদিন বিকালে ক্যানিংয়ের বন্ধুমহল অডিটোরিয়াম হলে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বোলন এবং কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ক্যানিংয়ের মহকুমা শাসক মিঠুন বিশ্বাস। অন্যান্য বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গবেষক পূর্ণেন্দু ঘোষ, গবেষক উজ্জ্বল সরদার,অনিলকৃষ্ণ মিস্ত্রী,গোরাচাঁদ চৌধুরী,সংস্কৃত কলেজ বিশ্ববিদ্যালের অধ্যাপক ডঃ পার্থসারথী গাঙ্গুলী,অনন্যা নাগ,শিক্ষারত্ন শিক্ষক বিবেক পাল,বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ক্ষিতীশ বিশাল সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা।

এদিন অনুষ্ঠানে বরীন্দ্র সঙ্গীত,অঙ্কন প্রতিযোগীতা,,নৃত্যানুষ্ঠান সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।এছাড়াও প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ক্ষিতীশ বিশালের লেখা ‘জানা অজানায় সুন্দরবন’ একটি বই প্রকাশ হয়। পাশাপাশি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শন হয়।
উল্লেখ্য ১৯০৩ সালে প্রত্যন্ত সুন্দরবনে এসেছিলেন স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিলটন সাহেব। তিনি গোসাবা,রাঙাবেলিয়া ও সাতজেলিয়া ইজারা নিয়েছিলেন। সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা,স্বাস্থ্য,খাদ্যের জন্য উন্নয়ণ শুরু করেন।এমনকি ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম সমবায় নীতি ও পঞ্চায়েতী রাজ চালু করেন তিনি। এমন কর্মযঞ্জ প্রসঙ্গ কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর জানতে পেরেছিলেন। অপরদিকে কবিগুরু কে গোসাবায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্যার হ্যামিলটন সাহেব। সেই মতো হ্যামিলটন সাহেবের ডাকে সাড়া দিয়ে কবিগুরু ১৯৩২ সালের ২৯ ডিসেম্বর কয়লা ইঞ্জিন চালিত ট্রেনে চেপে ক্যানিং স্টেশনে এসেছিলেন। সেই সময় ক্যানিং গোলকুঠি পাড়া সংলগ্ন ডেভিড সেশুন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক দ্বারিক বাবু কবিগুরু কে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে। এছাড়াও তৎকালীন ডেভিড সেশুন হাইস্কুলের ছাত্র পঞ্চানন সিং সংবর্ধনা পত্রপাঠ করেন।সংবর্ধনার পর কবিগুরু জলযানে চেপে গোসাবার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।সেখানে হ্যালমিলটন সাহেবের কর্মযঞ্জ দেখে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন কবি। পরবর্তী ১৯৩৩ সালের ১ লা জানুয়ারী তিনি ফিরে আসেন। ক্যানিং হয়ে বোলপুরে শান্তিনিকেতনে পৌঁছান। এরমধ্যে ট্রেন দেরীর জন্য ক্যানিং ষ্টেশনে বেশকিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল কবি কে।সেখানে তিনি একটি চেয়ারে বসেছিলেন। সেই চেয়ারটি পূর্বরেলের তরফে ক্যানিং ষ্টেশনে সংরক্ষিত করা হয়েছিল । পরবর্তীতে সেই চেয়ারের আর দেখা মেলেনি। চেয়ার নিয়ে তৈরী হয়েছিল একাধিক বিতর্কও।বরীন্দ্র নাথ ঠাকুরের সার্দ্ধশতবর্ষের জন্মদিবসে ক্যানিংয়ে স্মৃতি হিসাবে চেয়ারটি সংরক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন সুন্দরবনের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ক্ষিতীশ বিশাল ও তৎকালীন ক্যানিং মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারীক তাপস ভাওয়াল।যদিও সেই আবেদনে কোন প্রকার সাড়া মেলেনি। ফলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে ক্যানিংয়ে পদাপর্ণ করেছিলেন সেই স্মৃতি আঁকড়ে রয়েছেন সমগ্র সুন্দরবনবাসী ।



