নিজস্ব প্রতিনিধি: চিনপাই গ্রামে মা কালীর নিরঞ্জন উপলক্ষ্যে বিশ্রামতলায় ভোগ খাওয়ানো হয় । ভাইফোঁটার দিন সকাল থেকে মায়ের আগমন উপলক্ষ্যে ভোগের রান্না শুরু হয় । চিনপাই গ্রামে প্রাচীনকাল থেকে পূজিত হয়ে আসছে মা সিদ্ধেশ্বরী যা গ্রামের সকলের কাছে বড়ো মা নামে পরিচিত । ছোটো মা সিদ্ধেশ্বরী পূজিত হয় । প্রায় কয়েকশো বছর আগে চিনপাই গ্রাম গভীর জঙ্গলে ঢাকা ছিলো । সেই জঙ্গলে উত্তর ভারতের এক অবাঙালী সাধু এসে বসবাস করতো । তিনি একনিষ্ঠ মায়ের সাধক বড় ভক্ত ছিল । তিনি এই অঞ্চলে মাকে জঙ্গলের মাঝে প্রতিষ্ঠা করে সেই শুরু পুজোর । দুর্গাপুজোর পর ত্রয়োদশীর দিন থেকে কালীমন্দিরে বড়ো মা ও ছোটো মায়ের প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয় । কালীপুজোর দিন দীপান্বিতা অমাবস্যায় শতাধিক পাঠা বলি হয় । ভাইফোঁটার দিন মায়ের বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয় । সেদিন মায়ের অন্যান্য ভোগের সাথে এক বিশেষ ভোগ মাকে অর্পণ করা হয় । মাকে আগুনে সেঁকা রুটির ভোগ দেওয়া হয় । ভাইফোঁটার দিন বাড়ির মেয়ে বউরা প্রথমে ভাইফোঁটার থালায় ধান,দূর্বা, চন্দন,পান,পইতে,মিষ্টি সাজিয়ে আগে মায়ের কাছে অর্পণ করে । তারপর তারা প্রত্যেকে ভাইফোঁটার জন্য প্রস্তুত হয় । বিকাল থেকে গ্রামের মেয়ে বউরা তেল সিঁদুর নিয়ে মাকে বরণ করে । মন্দির থেকে দুই মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি কাঁধ দোলাই করে পুরো গ্রাম ঘোরে । ঘুরতে ঘুরতে গ্রামের শেষপ্রান্ত একটা জায়গায় মাকে বিশ্রামের জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করানো হয় যেটি বিশ্রামতলা নামে পরিচিত ।
বিশ্রামতলায় বট ও অশ্বত্থ গাছের নিচে খিচুড়ি ভোগ দিয়ে নিরঞ্জনের রীতি দীর্ঘদিনের । খিচুড়ি ভোগ দিয়ে মাকে নিরঞ্জন করে সেখানে মহাপ্রসাদ খায় আশেপাশের গ্রামের ভক্তরা । সেখানে চিনপাই,এলেমা, হোসেনবাজার,তাপাসপুর, বাঁধেরশোল সহ একাধিক গ্রামের কয়েকহাজার ভক্ত পাত পেড়ে মায়ের প্রসাদ খায় । মায়ের অসীম করুনায় আগত ভক্তরা কেউই অভুক্ত অবস্থায় ফিরে যায় না । বিশ্রামতলা সিদ্ধেশ্বরী যুব সংঘ ক্লাব পুরো বিষয়টি পরিচালনা করে । মাকে গ্রামেরই শেষপ্রান্তে এক পুকুরে নিরঞ্জন করা হয় । মায়ের পূজো উপলক্ষে এক সপ্তাহ ধরে গ্রামীন মেলা চলে । ভাইফোঁটার দিন সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ ছয়টি উনুনে খিচুড়ি, তরকারি রান্না হচ্ছে । সিদ্ধেশ্বরী যুব সংঘ ক্লাবের সদস্যরা বলে, “কয়েক হাজার ভক্ত এখানে মায়ের ভোগ গ্রহণ করে ।”



