Home Uncategorized মাটির জোগান নেই কয়েকদিন ধরেই, হাওড়ার ডোমজুড়ের পটুয়াপাড়ায় থমকে প্রতিমা গড়ার কাজ

মাটির জোগান নেই কয়েকদিন ধরেই, হাওড়ার ডোমজুড়ের পটুয়াপাড়ায় থমকে প্রতিমা গড়ার কাজ

0

সুমন আদক, হাওড়া: মাঝে আর তিনটে মাস। আগামী অক্টোবরে বাঙালির প্রিয় শারদোৎসব। অথচ বছরের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়েই থমকে গিয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। কারণ দিনকয়েক ধরেই মাটির জোগান নেই। মাটির এই সঙ্কটের জেরে হাওড়ার ডোমজুড়ের প্রসিদ্ধ পটুয়াপাড়ায় নেমে এসেছে ঘোর অনিশ্চয়তা। যে সময়ে শিল্পীদের কর্মশালাগুলিতে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকার কথা সেই সময়ই অধিকাংশ ঠাকুর তৈরির গোলায় যেন একটা অনিশ্চয়তার মেঘ। প্রতিমা শিল্পীদের দাবি, প্রায় ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে প্রতিমা তৈরির উপযোগী মাটির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্গা প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করাই সম্ভব হচ্ছেনা। এর জেরে শুধু শিল্পীরাই নন উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন পুজো কমিটি ও উদ্যোক্তাদের মধ্যেও। জনৈক মৃৎশিল্পী দিলীপ কুমার মণ্ডল বলেন, প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাটি সাধারণত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার এলাকা থেকে আসে। কিন্তু গত ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কোনও মাটির চালান আসেনি। এই সময় থেকেই দুর্গা প্রতিমার কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যায়। কিন্তু মাটি না থাকায় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সরকার যদি দ্রুত বিষয়টির দিকে নজর দেয় তাহলে আমাদের অনেকটা সমস্যার সমাধান হবে। আরেক মৃৎশিল্পী বাবুরাম চিত্রকর বলেন, পটুয়াপাড়ায় ৪০টিরও বেশি প্রতিমা তৈরির কারখানা রয়েছে এবং প্রায় সকলেই একই সমস্যার সম্মুখীন। পুজো উদ্যোক্তাদের অনেক অর্ডার ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। স্পষ্ট করে বলতে হচ্ছে, মাটি না এলে প্রতিমা তৈরি করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চললে বহু পুজো কমিটি সময়মতো প্রতিমা পাবেন না। এত পাশাপাশি প্রতিমা শিল্পীদের আশঙ্কা, মাটির সঙ্কটের পাশাপাশি দক্ষ কারিগরদের অন্যত্র কাজ খুঁজে নেওয়ার প্রবণতাও নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে কাজ না থাকায় অনেক কারিগর নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়েছেন। পরে মাটি এলেও তাঁদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা শিল্পীদের। প্রতিমা শিল্পীদের মতে, বর্তমানে তাঁরা একদিকে মাটির সংকট অন্যদিকে কারিগর সঙ্কট, এই দুই সমস্যার মুখোমুখি তাঁরা। ফলে দুর্গাপুজোর মরশুমকে সামনে রেখে তাঁদের উদ্বেগ বাড়ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version