Friday, March 6, 2026
spot_img

মাঘী পূর্ণিমায় পুণ্যার্থীদের ঢল গঙ্গাসাগরে:

সৌরভ নস্কর গঙ্গাসাগর: রবিবার পবিত্র মাঘী পূর্ণিমা। এই মাহেন্দ্রক্ষণে গঙ্গাসাগরের মোহনায় সমাগম ঘটেছে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর। কনকনে শীত উপেক্ষা করেই ভোররাত থেকে সাগরের পবিত্র জলে পুণ্যস্নান সম্পন্ন হয়েছে। মোক্ষ লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে সাগরতট। স্নান শেষে ভক্তরা ভিড় জমান কপিলমুনির আশ্রমে, যেখানে দিনভর চলছে বিশেষ পূজা ও আরতি। ​পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রথম থেকেই তৎপর। সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে কপিলমুনি মন্দির চত্বর পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং বিশাল ভিড় সামাল দিতে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কোনো খামতি রাখেনি প্রশাসন; আকাশপথে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ​স্নান সেরে পুণ্যার্থীদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ‘চেঞ্জিং রুম’ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে মোড়ে মোড়ে পাউচ ও জলের ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা রয়েছে। স্যানিটেশনের কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে মুড়িগঙ্গা নদীতে ভেসেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মেলায় আসা ও যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত সরকারি ও বেসরকারি বাসের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। ​শনিবার রাত থেকেই সাগর তটে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। পুণ্যার্থীদের সেবায় এগিয়ে আসেন খোদ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। শনিবার রাতে কয়েক হাজার ভক্তের জন্য খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রায় নিজে উপস্থিত থেকে পুণ্যার্থীদের হাতে গরম খিচুড়ি পরিবেশন করেন। প্রশাসনের এই মানবিক মুখ দেখে খুশি তীর্থযাত্রীরা। ​রবিবার সকালে সাগর বকখালি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার মালিক সশরীরে উপস্থিত হয়ে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান সারেন। তিনি সামগ্রিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের প্রতিটি কর্মী সজাগ রয়েছেন। সাগর প্রহরীরা সমুদ্র সৈকতে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করছেন। মেলা প্রাঙ্গণকে ‘গ্রিন এবং ক্লিন’ রাখার জন্য ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও সাফাই অভিযান চলছে।” ​চেয়ারম্যান আরও জানান, গত বছর মাঘী পূর্ণিমায় প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থী এসেছিলেন। এ বছর সেই রেকর্ড ভেঙে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে ভিড় সামাল দেওয়া এবং তীর্থযাত্রীদের পরিষেবা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, কড়া নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে গঙ্গাসাগরে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে মাঘী পূর্ণিমার এই পুণ্য উৎসব।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles