Home Uncategorized ভ্রমণপিপাসু বাঙ্গালীদের ভয় দূর করতে মাঠে নামলেন স্বয়ং ওমর আব্দুল্লাহ

ভ্রমণপিপাসু বাঙ্গালীদের ভয় দূর করতে মাঠে নামলেন স্বয়ং ওমর আব্দুল্লাহ

0

সন্ত্রাসী হামলার পরে কাশ্মীরে ঘুরতে যাওয়া যেন এক বিভীষিকা হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের মনে সাহস যোগাতে সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। আরো আটোসাটো হয়েছে নিরাপত্তা। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বন্দে ভারত কাটরা থেকে জম্মুর উদ্দেশ্যে উদ্বোধন করেছেন। সব থেকে উঁচু চেনাব ব্রিজের উদঘাটন হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। এরই মাঝে কয়েকদিন আগে থেকে অমরনাথ যাত্রা শুরু করেছেন পুণ্যার্থীরা। কাশ্মীরের ভয় কাটিয়ে আস্তে আস্তে পর্যটকরা সেদিকে পা বাড়াচ্ছেন কিন্তু আগে যেভাবে উৎসাহ বেড়ে উঠেছিল তা যেন অনেকটাই কমে গিয়েছে।
আর বাঙালি মানেই তো পায় সর্ষে, ঘুরতে যাওয়ার নাম শুনলেই এক পায়ের রাজি। পর্যটন সংস্থার এক কর্ণধার জানালেন কাশ্মীরে পর্যটনে প্রায় কুড়ি শতাংশের বেশি বাঙালি অংশগ্রহণ করে। তারপর আসে গুজরাট মহারাষ্ট্র দক্ষিণ ভারত সহ অন্যান্য রাজ্য। তার কথায় হামলার পরে একেবারে মাথায় হাত পড়ে গিয়েছিল পর্যটন ব্যবসায়। কিন্তু বন্দে ভারত চেনাব সেতু রাস্তা দেখাচ্ছে পর্যটনের।
তাই বাঙ্গালীদের মনের ভয় কাটাতে কাশ্মীরের পর্যটনে গতি আনতে স্বয়ং জম্মু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ উপস্থিত হয়েছেন কলকাতায় ট্রাভেল ট্যুরিজম ফেয়ারে। তার বক্তব্যে তিনি বারবার তুলে ধরেছেন বাঙালির সাথে কাশ্মীরের সম্পর্ক। আহ্বান জানিয়েছেন পাহাড় বিস্তৃত ভূস্বর্গ কে উপভোগ করবার জন্য। তিনি বলেন, শনমার্গ গুলমার্গ পেহেলগাও ডাল লেক তৈরি হয়ে গিয়েছে বাঙ্গালীদের স্বাগত জানাতে। যারা সন্ত্রাসী হামলার পরে স্বাভাবিক কাশ্মীর ঘুরে এসেছেন তাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। সব রকম ভাবে পাহাড় স্বাগত জানাবে বাঙালি পর্যটক তথা ভারতের পর্যটকদের।
এক পর্যটন ব্যবসায়ী আমাদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সরকারের কাছে তিনি অনুরোধ করছেন আরো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার যাতে পর্যটকদের মন থেকে ভয় দূরে সরে যায়। এছাড়াও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আকাশ পথের অত্যাধিক ভাড়া অনেক সময় পর্যটকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবস্থা কিছুটা হলেও ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে তিনি আহ্বান করেন সরকারের কাছে যাতে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
পর্যটন মেলায় ঘুরে দেখে সকলের সাথে কথা বলে জানা গেল পর্যটন ব্যবসা এখন অনেক এগিয়ে। মানুষ এখন আর ঘরে বসতে চায় না তাই তারা অল্পদিনের ছুটিতেও বেরিয়ে পড়েন প্রকৃতির সঙ্গে দেখা করতে।
উত্তরাখণ্ডের এক পর্যটন ব্যবসায়ী বলেন, বাঙালি মানেই ঘুরে বেড়ানো উত্তরাখণ্ডে প্রায় ৫০ শতাংশ বাঙালি পর্যটক প্রত্যেক বছর ঘুরতে যান। পুজোর সময় তা বেড়ে হয়ে যায় ৭০ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য ভাবে তিনি জানান তাদের চার পুরুষের এই ব্যবসা পুরোটাই বাঙালি নির্ভর। বাঙালি রাই নাকি জানে নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করে সেখানে রুমহর্ষক মুহূর্ত কাটাতে তাই অফ বিটের জয়জয়কার। ঘুরবার জন্য বাঙালি পয়সা খরচ করতে পারে তাই বেশি প্যাকেজের টুর বাঙালি রাই বেছে নিচ্ছে।
তবে প্রাকৃতিক তাণ্ডব তার সাথে নিরাপত্তার কমতি পর্যটনে অবশ্যই প্রভাব ফেলছে।
এই পর্যটনমেলায় পাওয়া যাবে বিভিন্ন দেশ এবং ভারতের কোনায় কোনায় ঘুরতে যাওয়ার ঠিকানা। এক ছাতার তলায় পাওয়া যাবে থাকবার জায়গা গাড়ি সহ বিশেষ গাইডেন্স। মেলা চলবে ১১ থেকে ১৩ মিলন মেলা প্রাঙ্গনে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version