Home Uncategorized ভোট সন্ত্রাসের ট্রেলার শুরু

ভোট সন্ত্রাসের ট্রেলার শুরু

0
Oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় নির্বাচন কমিশন কথা দিয়েছে এবার পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে তারা প্রতিজ্ঞা বদ্ধ। ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে চলে এসেছে ৪০০ কোম্পানীর বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী। থানায় থানায় তাদের পাঠানো হয়েছে। মোট ২৫০০ কোম্পানী বাহিনী চাওয়া হয়েছে। ভোট ঘোষণার পর থেকে কমিশন কড়া হাতে পুলিশ প্রশাসনে রদ বদল শুরু করেছে। ডিজি থেকে থানার বড়বাবু কেউই ছাড় পাচ্ছে না। তবু যত ভোেট এগিয়ে আসছে ততই অশান্ত হয়ে উঠছে বাংলা। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। সারা বাংলায় এ যেন এক উপদ্রুত অঞ্চল। ইতিমধ্যেই সাগর, ভাঙর, ক্যানিং, রায়দিঘিতে সন্ত্রাসের ট্রেলার শুরু হয়েছে। চাম্পাহাটিতে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ শব্দবাজির মশলা। পুকুর, খাল, বিল, মাঠ থেকে পাওয়া যাচ্ছে বোমা। অন্তর্কলহে লেগে রয়েছে শ্যুটআউটের ঘটনা।

বৃহস্পতিবার বাসন্তীতে বিজেপি প্রার্থীর প্রচার চলাকালীন দুষ্কৃতীদের হামলায় জখম হলেন বিজেপির কয়েকজন কর্মী সহ ১২ জন। যার মধ্যে বাসন্তী থানার এসআই সৌরভ গুহ, কনস্টেবল অমিত বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ দাস, দেবাশীষ হালদার, সঞ্জিত গোলদার, অনুপ কুমার হালদার সহ সিভিক ভলেন্টিয়ার সৌমেন মণ্ডল ও রফিকুল লস্কর।

২৬ মার্চ বাসন্তী বাজারে প্রচার করছিলেন ১২৮ বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদার। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করেন তৃণমূলের লোকজন কটুক্তি ও প্রচারে বাধা দিয়ে তাদের বাইক ভাঙচুর করে। ঘটনার খবর পেয়ে বাসন্তী থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ওই এলাকায় আসলে তাদেরও লক্ষ্য করে ইট ছুটতে থাকে দুষ্কৃতীরা। প্রার্থীকে নিরাপদে বের করে স্থানীয় ভারত সেবাশ্রম সংঘে গিয়ে রাখা হয়। ঘটনায় বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজনকে মারধর করা সহ তিনটি বাইক ভাঙচুর করা হয়েছে ও ৮ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছে। সকলকেই বাসন্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

বিকাশ সর্দার বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলাম। সঙ্গে আমাদের দলীয় কর্মীরা ছিলেন। হঠাৎ করে সেই সময় তৃণমূলের বেশ কিছু দুষ্কৃতি যারা এসে আমাদের বাধা দেয় এবং মারধর করে। আটকাতে গেলে পুলিশ বাধা পায়। পুরো ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের ইন্ধনে। বুধবারে কাকদ্বীপে রাজনৈতিক অশান্তির ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুপুর থেকে কাকদ্বীপ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিধায়ক ঘনিষ্ঠ শিবির ও ছাত্র পরিষদের একাংশের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, রাত ৮ টা নাগাদ মুখ ঢেকে বাইকে চেপে আসা একদল দুষ্কৃতী বিধায়ক অনুগামীদের উপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় ২ জন গুরুতর আহত সহ বেশ কয়েকজন কর্মী জখম হন। আহতদের দ্রুত কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানুউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানা সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দুকেই দায়ী করে বলেন, ‘কাকদ্বীপ আজ অশান্ত, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই অশান্তির প্রভাব যাতে অন্য রাজনৈতিক কর্মীদের উপর না পড়ে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

থানায় কমিশনের ‘নিরপেক্ষ’ পুলিশ আছে। আছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি। নিয়ম করে চলছে তাদের রুটমার্চ। তবু নাগরিকদের ভয় ভাঙছে কই। দুষ্কৃতিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। চলছে গুলি-বন্দুকের প্রদর্শনী। এমন চলতে থাকলে যখন ভোট আসবে তখনকার অবস্থার ভেবেই কাঁটা বাংলার মানুষ। সবার একটাই প্রশ্ন বাংলার ভোট সামলাতে কমিশনের সব প্রচেষ্টাই কি শেষ পর্যন্ত মাঠে মারা যাবে?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version