মলয় সুর, সিঙ্গুরপূর্ব রেলওয়ে ডিভিশনে হাওড়া ব্যান্ডেল শাখায় বৈদ্যবাটী ও ভদ্রেশ্বর স্টেশনের মাঝখানে ঘুড়িগাছি নামে একটি হল্ট রেলওয়ে স্টেশন করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ১৯৭৬ সালের গোড়ার দিক থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে স্টেশন করার দাবি জানিয়ে আসছেন। উল্লেখযোগ্য গনিখান চৌধুরী রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এখানকার স্থানীয় মানুষ এ বিষয়ে তার কাছে বারবার দরবার করেছেন। কিন্তু স্টেশন নির্মাণের কাজ বিষ বাওঁ জলে। ঘুড়িগাছি নতুন রেলওয়ে স্টেশন দাবি সমিতি গঠন হয়। তৎকালীন কমিটিতে চাঁপদানি কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল মান্নান সহ ১১ জন ছিল। যদিও এই কমিটি সর্বদলীয়ভাবে গঠন করা হয়। ।এদিকে খুঁড়িগাছিতে স্টেশন হওয়া খুবই জরুরী। ভদ্রেশ্বর থেকে বৈদ্যবাটী স্টেশনের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার এবং ই.এম.ইউ লোকাল ট্রেনে সময় লাগে ৫ মিনিটের মতো। বর্তমানে এই স্থানে জনসংখ্যা প্রায় ২ লক্ষাধিক। এইসব স্থানের বাসিন্দারা কলকাতায় অফিস পৌঁছাতে অথবা ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজের যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড অসুবিধার সম্মুখীন প্রতিনিয়ত হয়ে চলেছে। অল্প সময় হাতে নিয়ে বেরোলে ট্রেন সামনে দিয়ে চলে গেলেও কিছু করার থাকে না। এই স্টেশনের দাবিতে পূর্বরেলওয়ে শাখার জেনারেল ম্যানেজার এবং হাওড়া ডিভিশনের ডি.আর.এম-কে পর্যন্ত ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ তাতে কোনও সাড়া দেননি। কমিটির সদস্য অভিমন্যু ধোলে বলেন, এই স্টেশনের দাবিতে ১৯৮২ সালে এলাকার সাধারণ মানুষ লোকসভা ভোট বয়কট করেন। পূর্বরেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এই স্টেশনের ব্যাপারে পরীক্ষামূলকভাবে ই.এম.ইউ লোকাল ট্রেনের স্টপেজের জন্য চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রেল দপ্তরের অভিযোগ এখানে টেকনিক্যাল সমস্যা থাকার দরুন বাস্তবায়িত করা সম্ভব হচ্ছে না। এবার সিঙ্গুরের ঐতিহাসিক টাটাদের ন্যানো প্রকল্পের নতুন রেল স্টেশনে তৈরির দাবিতে দেশের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দাস দামোদর মোদীকে কমিটির তরফ থেকে স্মারকলিপি দেওয়ার ব্যবস্থা হয়।



